নিলামের উত্তাপে শরিফুল-ঝড়

ক্রীড়া প্রতিবেদক 
নিলামের মঞ্চে রেকর্ড গড়লেন একজন, সেই রেকর্ড টিকল না কয়েক মিনিটও! তাসকিন আহমেদের সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ড ভেঙে ডি থ্রি ট্রফির নিলামে নতুন উচ্চতায় উঠলেন শরিফুল ইসলাম। জাতীয় দলের এই বাঁ হাতি পেসারকে দলে নিতে দুই কোটি ৩০ লাখ পয়েন্ট খরচ করেছে সিটিজেনস ব্যাংক। এর আগে দুই কোটি ১০ লাখ পয়েন্টে তাসকিনকে কিনে রেকর্ড গড়েছিল ওয়ালটন। কিন্তু শরিফুলের দর হাঁকানোর পর সেই রেকর্ড হয়ে যায় পুরনো।
রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত ডমেস্টিক থ্রি বা ডি থ্রি ট্রফির নিলামে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে দলগুলোর আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পেসারদের ঘিরে প্রতিযোগিতা জমে ওঠে। তাসকিনের রেকর্ড গড়ার পর শরিফুলকে নিয়ে শুরু হয় নতুন লড়াই। শেষ পর্যন্ত দুই কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে তাকে নিজেদের শিবিরে ভেড়ায় সিটিজেনস ব্যাংক। তাতে নিলামের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া ক্রিকেটার শরিফুল। 
এর আগে নিলামের আলোচনায় ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। তাকে দুই কোটি পয়েন্টে দলে নিয়েছিল ফরচুন। কিন্তু তাসকিন ও শরিফুলের দর ওঠার পর সর্বোচ্চ পয়েন্টের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েন এই ওপেনার। অল্প সময়ের ব্যবধানে নিলামের শীর্ষস্থান বদলেছে একাধিকবার। শুরুতে তানজিদ, এরপর তাসকিন এবং সবশেষে শরিফুল-পয়েন্টের লড়াইয়ে একের পর এক নতুন চমক দেখিয়েছে নিলাম। 
শুধু শরিফুল কিংবা তাসকিন নন, জাতীয় দলের আরো কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্যও বড় অঙ্কের পয়েন্ট খরচ করেছে দলগুলো। ওপেনার সাইফ হাসানকে এক কোটি ৯৫ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে সেভেন রিংস সিমেন্ট। একই অঙ্কে পেসার হাসান মাহমুদকে কিনেছে ব্লু স্টার। জাকের আলীর জন্য সিটিজেনস ব্যাংক খরচ করেছে এক কোটি ৭০ লাখ পয়েন্ট। জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার লিটন দাসকে এক কোটি ৫৫ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে মুমিনুল হকের দল ওয়ালটন। 
অন্য দিকে নাহিদ রানাকে ৭৫ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে ব্লুস্টার। ৮০ লাখ পয়েন্টে ওয়ালটনে জায়গা পেয়েছেন মুমিনুল হক। এর আগে শেখ মাহেদী হাসানকে দেড় কোটি পয়েন্টে কিনেছিল ব্লু স্টার। নাজমুল হোসেন শান্তর জন্য ফরচুন খরচ করেছে এক কোটি ৫৫ লাখ পয়েন্ট। সৌম্য সরকার ৭৫ লাখ এবং রিশাদ হোসেন ৬০ লাখ পয়েন্টে জায়গা পেয়েছেন একই দলে। যদিও বিগ ব্যাশে ব্যস্ত থাকায় ডি থ্রির টি-২০ পর্বে রিশাদকে পাওয়া যাবে না। 
তবে নিলামে ক্রিকেটারদের জন্য যে বিপুল পয়েন্ট ব্যয় হচ্ছে, সেটিকে সরাসরি পারিশ্রমিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এই নিলাম হচ্ছে পয়েন্টভিত্তিক। ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিক হিসেবে পাবেন বিসিবি নির্ধারিত ঘরোয়া ম্যাচ ফি। প্রতিটি দলের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ কোটি পয়েন্ট। সেই সীমার মধ্যেই পছন্দের ক্রিকেটারদের নিয়ে দল সাজাতে হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে। 
নিলামের জন্য ক্রিকেটারদের ভাগ করা হয়েছে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ভিত্তিমূল্য ৪০ লাখ, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩০ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ২০ লাখ, ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ১০ লাখ এবং ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ৫ লাখ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ২৭৫ ক্রিকেটার। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ২২, ‘বি’তে ২৫, ‘সি’তে ৭০, ‘ডি’তে ৫২ এবং ‘ই’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ১১২ জন। 
ছয় দলের এই টুর্নামেন্টে আইকন ক্রিকেটারদের দল অবশ্য আগেই চূড়ান্ত হয়েছে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত খেলবেন অ্যাকমিতে, মোহাম্মদ নাঈম শেখ সিটিজেনস ব্যাংকে, মুশফিকুর রহীম সেভেন রিংস সিমেন্টে, নুরুল হাসান সোহান ব্লু স্টারে, তৌহিদ হৃদয় ফরচুনে ও মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়ালটনে। 
ডিসেম্বরে তিন সংস্করণে মাঠে গড়ানোর কথা ডি থ্রি ট্রফির। তার আগে নিলামের মঞ্চে শরিফুলের এই রেকর্ড দলগুলোর পেস আক্রমণ সাজানোর গুরুত্ব যেমন তুলে ধরেছে, তেমনি জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ঘিরে প্রতিযোগিতার উত্তাপও বাড়িয়ে দিয়েছে।  

Advertisement