
ফজলুর রহমান নন্দীগ্রাম (বগুড়া)
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় আগাম জাতের রোপা আমনে বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠজুড়ে ধান কাটা-মাড়াই চলছে পুরোদমে। মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের সোনালি আভা। কোথাও কৃষক ধান কাটছেন, কোথাও চলছে মাড়াই, আবার কোথাও কাটা ধান বাড়িতে নেয়ার ব্যস্ততা। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কম প্রকোপে আগাম জাতের আমন ধানের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আলু, সরিষা ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন রবি ফসল চাষ করে বাড়তি আয়ের পরিকল্পনা করছেন তারা।
কৃষকদের ভাষ্য, আগাম জাতের আমন ধান চাষের অন্যতম বড় সুবিধা হলো কম সময়ে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়। এতে এক দিকে যেমন ধান বিক্রি করে নগদ অর্থ পাওয়া যায়, অন্য দিকে দ্রুত জমি প্রস্তুত করে পরবর্তী ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ার পথ সুগম হয়।
সরেজমিন উপজেলার রিধইল, কৈগাড়ী, নামুইট ও বাদলাষনসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সোনালি ধানে ভরে উঠেছে। অনেক জমিতে পুরোদমে কাটা-মাড়াই চলছে। কৃষক ও কৃষি শ্রমিকেরা ধান কাটা, আঁটি বাঁধা, মাড়াই এবং শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকেরা জানান, আগাম জাতের ধান চাষ করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রোপা আমন মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলার পঁাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৯১৭ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে আগাম জাতের ধান। এসব আগাম জাতের মধ্যে রয়েছে বিনা-৭, বিনা-১৭, মিনিকেট, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৭৫, রঞ্জিত ও কাটারিভোগ। এসব জাতের ধান ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় কাটা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া আগাম জাতের ধান কাটা শেষ হলে পর্যায়ক্রমে ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-১০৩ ও স্বর্ণা-৫ জাতের ধান কাটার কাজ শুরু হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে চলতি মৌসুমে আমন ধানের উৎপাদন অত্যন্ত ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগাম আমন ধান ঘরে তোলার পর নতুন ফসল চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। কেউ সরিষা, কেউ আলু, আবার কেউ পেঁয়াজ চাষের ছক কষছেন। বাদলাষন গ্রামের কৃষক জামিল হোসেন জানান, তিনি পাঁচবিঘা জমিতে ব্রি ধান-৪৯ জাতের ধান চাষ করেছেন। ফলন ভালো পাওয়ায় তিনি আনন্দিত। ধান কাটা শেষ করে দ্রুত জমি প্রস্তুত করে সেখানে সরিষা চাষ করবেন তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রবি ফসল চাষের বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চার হাজার হেক্টর জমিতে আলু, পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা, ১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা এবং ৩০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কৃষি বিভাগের এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে আমনের পাশাপাশি রবি ফসল উৎপাদনেও নন্দীগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে কৃষকদের প্রত্যাশিত লাভ অনেকাংশে নির্ভর করছে বীজ, সার, সেচ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য উৎপাদন খরচের ওপর। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে কাক্সিক্ষত লাভ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ধানের ন্যায্যমূল্য পেলে তবেই কৃষকদের কষ্ট সার্থক হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজিউল হক জানান, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ এবং সার-বীজের সহায়তার কারণে রোগবালাইয়ের প্রকোপ ছিল না বললেই চলে। সঠিক সময়ে জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যার ফলে ফলন ভালো হয়েছে। এখন উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের কৃষকেরা আরো বেশি লাভবান হতে পারবেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








