
রয়টার্স
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা রোববার নজিরবিহীনভাবে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন, জানিয়েছে দেশটির নির্বাচনী আদালত। জনমত জরিপ, পূর্ববর্তী নজির এবং ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মনোভাবকে ভুল প্রমাণ করে এক চমকপ্রদ জয় পেয়েছেন ব্রাজিলের এই বামপন্থি নেতা। এটি লাতিন আমেরিকাজুড়ে চলা ডানপন্থি নির্বাচনী জয়ের ঢেউকে থামিয়ে দিয়েছে।
বিশ্ব বামপন্থার এক প্রতীক এবং এই শতাব্দীতে ব্রাজিলীয় রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি লুলা পরাজিত করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী সেনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারোকে, যিনি দেশটির সাবেক কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র। প্রথম পর্বের নির্বাচনে ফ্লাভিও বোলসোনারো সব প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। নির্বাচনী জরিপগুলোও তার পক্ষে কথা বলছিল। তিনি তার বাবার অতি ডানপন্থি আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করার আশা করেছিলেন। কিন্তু লুলা সবকিছুকেই থামিয়ে দিলেন।
এক পর্যায়ে লুলা পুনর্র্নিবাচিত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে হচ্ছিল। বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোটাররা লুলা ও তার ওয়ার্কার্স পার্টির ওপর বিরক্ত হয়ে ছিল। ইন্টারনেটের প্রভাবে সামাজিক ক্ষেত্রে ঘটা ব্যাপক পরিবর্তনগুলো এই সাবেক মেটালওয়ার্কার ও শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাকে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছিল, যে তাকে তার সমসাময়িক পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই বলে মনে হচ্ছিল না। ক্রমবর্ধমান অ্যাপভিত্তিক অর্থনীতি ও এর আওতায় বেড়ে চলা অনানুষ্ঠানিক কর্মীদের জগত থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে হচ্ছিল।
লুলার এই জয় তার বারবার ফিরে আসার নজির হয়ে রইল। জীবনভর এমন অনেক প্রত্যবর্তনের নজির গড়েছন তিনি। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে অভিযোগ বাতিল হওয়ার পর ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ওই সময়ের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোকে পরাজিত করেন। এবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটে পিছিয়ে থেকেও রান-অফে বাজিমাত করলেন। এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দুই মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন লুলা। “তিনি একজন রাষ্ট্রনায়ক, এক মহীরুহ,” রয়টার্সকে বলেছেন দেশটির বামপন্থি আইনপ্রণেতা এরিকা হিলটন। ভোট গণনার সময় হিলটন সাউ পাউলুতে লুলার সঙ্গে ছিলেন।
বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
রোববার অনুষ্ঠিত রান-অফ নির্বাচনের এই ফলাফল ঘোষণার পর বিশ্বমঞ্চে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে বৈশ্বিক বামপন্থি নেতারা লুলার এই জয়কে বিশেষভাবে উদযাপন করছেন। নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিশ্চিয়ানো জানিনের দেওয়া দুই ঘণ্টার অতিরিক্ত ভোটগ্রহণের সময়কে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। যদিও উভয় প্রার্থীর পক্ষ থেকেই ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এক বক্তব্যে নিজের এই আপত্তির কথা তুলে ধরেন তিনি।
লুলার বিজয়ে এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, ‘গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক, ব্রাজিলের জনগণ জয়ী হয়েছে।’ কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তার অভিনন্দন বার্তায় কানাডা ও ব্রাজিলের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ায় লুলার ভূমিকার প্রশংসা করেন। মার্কিন রাজনৈতিক মহলে এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








