
এফ এ আলমগীর চুয়াডাঙ্গা
আগাম জাতের বাঁধাকপি চাষ করে বাড়তি আয়ের আশায় ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃষকরা। তবে হঠাৎ রোগের আক্রমণে মাঠের পর মাঠের বাঁধাকপি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। বিশেষ করে উপজেলার উথলী এলাকার বিভিন্ন মাঠে আক্রান্ত খেতের বাঁধাকপি পচে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে চাষের খরচ তোলা তো দূরের কথা, মূলধন হারানোর আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
সরেজমিন দেখা যায়, সারিবদ্ধ বাঁধাকপির খেতের সবুজ পাতা বিবর্ণ ও কালচে হয়ে পচে যাচ্ছে। অনেক কৃষক ধারদেনা করে প্রতি বিঘায় উল্লেখযোগ্য অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। কয়েক দিনের মধ্যে এসব বাঁধাকপি বাজারে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু রোগের কারণে নষ্ট হওয়া কপি এখন গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
কৃষক সাহাবুল ইসলাম জানান, তিন বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। হঠাৎ রোগে পুরো খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিক্রির মতো কোনো কপি অবশিষ্ট নেই। আরেক কৃষক শফি উদ্দিন বলেন, দেড় বিঘা জমির বাঁধাকপি কয়েক দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা নষ্টের পথে। ফসল রক্ষায় স্থানীয় দোকানদারদের পরামর্শে বিভিন্ন সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেও সুফল পাননি তারা।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়া, অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও বর্ষাকালীন ছত্রাকের আক্রমণে এ সমস্যা হয়েছে। জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার এবং সঠিক বালাইনাশক প্রয়োগ না করাও এর কারণ হতে পারে। নিম্নমানের ছত্রাকনাশক ব্যবহারের কারণেও কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আক্রান্ত এলাকায় কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
কৃষকেরা দ্রুত বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে রোগ নির্ণয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য আর্থিক সহায়তা বা প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








