চুয়াডাঙ্গায় খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা, লক্ষ্যমাত্রা ২৭০০ টন গুড়

এফ এ আলমগীর চুয়াডাঙ্গা ও মনিরুজ্জামান সুমন দামুড়হুদা 

Advertisement

শীতের আগমনী বার্তায় চুয়াডাঙ্গার মাঠে মাঠে খেজুর গাছ পরিচর্যা ও রস আহরণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। ধারালো দা হাতে গাছের শুকনো অংশ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহের উপযোগী করছেন তারা। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গাছে গাছে ঝুলবে মাটির হাঁড়ি। রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হবে সুস্বাদু গুড় ও পাটালি। এ মৌসুমি পণ্য ঘিরে জেলায় এবারো কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় প্রায় দুই লাখ ৭১ হাজার ৯৬০টি খেজুর গাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে এসব গাছ থেকে দুই হাজার ৭০০ মেট্রিকটন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমেও একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সে সময় খেজুরের গুড় ঘিরে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। 
চুয়াডাঙ্গা সদর, দামুড়হুদা, আলমডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে এখন গাছ পরিচর্যার ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। বিশেষ করে দামুড়হুদা-দর্শনা ও আলমডাঙ্গা এলাকায় খেজুর গাছের উপস্থিতি বেশি। সময়মতো গাছ পরিচর্যা ও সঠিকভাবে কাটতে না পারলে রস সংগ্রহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মৌসুম শুরুর আগেই প্রস্তুতি সারছেন গাছিরা। 
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একজন শ্রমিক প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি গাছ কাটছেন। এ কাজে দৈনিক ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা মজুরি দেয়া হচ্ছে। শীতের মৌসুমে গাছ কাটা, রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিকে কেন্দ্র করে বহু শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান হয়। 
দামুড়হুদার দর্শনা এলাকার গাছি রহিম খাঁ বলেন, এবার আগেভাগেই গাছ প্রস্তুত করছেন তারা। কয়েক দিন পর শ্রমিক পাওয়া কঠিন হতে পারে। শীত বাড়লে রস সংগ্রহ শুরু হবে। পরে সেই রস থেকে গুড় তৈরি করে স্থানীয় হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হবে। 
গাছিরা জানান, খেজুরের রস সংগ্রহে অভিজ্ঞতা ও নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। গাছের নির্দিষ্ট অংশ পরিষ্কার করে কেটে মাটির হাঁড়ি বাঁধা হয়। রাতভর সংগৃহীত রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় তরল গুড়, দানাদার গুড় ও পাটালি গুড়। মানসম্মত গুড় তৈরিতে রসের বিশুদ্ধতা ও পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ। 
চুয়াডাঙ্গার কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, এ জেলার খেজুরের গুড়ের মান ভালো হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এ গুড় দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। গত মৌসুমের মতো এবারো দুই হাজার ৭০০ মেট্রিকটন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এ খাতের ব্যবসায়িক মূল্য ছিল প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। তবে চলতি মৌসুমের উৎপাদন ও বাণিজ্যের প্রকৃত হিসাব মৌসুম শেষে জানা যাবে। 
কৃষি বিভাগ জানায়, আবহাওয়ার ওপর রস সংগ্রহ শুরুর সময় নির্ভর করে। পর্যাপ্ত শীত পড়লে রস সংগ্রহের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। তাই গাছ পরিচর্যার পাশাপাশি শীতের অপেক্ষায় রয়েছেন গাছিরা।