
শফিউল আযম বেড়া (পাবনা)
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাবনার বেড়ায় পদ্মা ও যমুনা নদীতে দিন-রাত অবাধে চলছে মা ইলিশ শিকার। ঢালারচর থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার নদীপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইলিশ ধরছেন জেলেরা। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলছে ইলিশ বেচাকেনা। অভিযান চালিয়েও বন্ধ করা যাচ্ছে না এ কার্যক্রম। অন্যদিকে, সরকারি খাদ্যসহায়তা না পাওয়ায় নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নিরুপায় হয়ে জেলেরা মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি করছেন তারা।
সরেজমিন দেখা যায়, ঢালারচর, কাজীরহাট, নটাখোলা, হরিরামপুর, পেঁচাকোলা, মালদাহপাড়া ও মোহনগঞ্জসহ পদ্মা-যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে রাতের আঁধারে বিক্রি হচ্ছে মা ইলিশ। বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে এসব মাছ কিনছেন। জেলেদের জালে ডিমওয়ালা ইলিশের পাশাপাশি জাটকাও ধরা পড়ছে। চার-পাঁচ ঘণ্টায় একটি জালে ছয়-সাত কেজি পর্যন্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। আকারভেদে ছোট ইলিশ ৭০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা এবং বড় ইলিশ কেজিপ্রতি এক হাজার ৭০০ টাকা থেকে এক হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঢালারচরের বারকোদালিয়া এলাকায় দিনের বেলাতেও ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকায় জেলেদের মাছ ধরতে দেখা যায়। ঢালারচরের প্রায় ১৫ কিলোমিটার উজানে চরসাফুলায় মাছ শিকার শেষে ফেরা জেলে বলরাম হলদার বলেন, নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা দেয়া হচ্ছে না। পেটের দায়ে নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছি। কী আর করব, সংসার তো চালাতে হয়।
জেলে নিতাই হলদারের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত জেলেদের কেউ কেউ চালের সহায়তা পেলেও অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। জেলে খগেন হলদার বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকলে তাদের পরিবারে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটে। নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই খাদ্যসহায়তা দেয়া হলে জেলেরা নদীতে নামত না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান চালানোর আগেই জেলেরা আগাম খবর পেয়ে যান এবং মুহূর্তেই তারা সতর্ক হয়ে যান। রাতে অভিযান না হওয়ায় এ সুযোগকে কাজে লাগান জেলেরা। তারা রাতের আঁধারে মাছ শিকার করতে নদীতে নামেন। এ ছাড়া নৌকাপ্রতি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা উৎকোচ দেয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসন জানিয়েছে, মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এ সময় জেলে আটক, মাছ জব্দ এবং নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।
বেড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: মোকাররম হোসেন বলেন, উপজেলায় তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছেন চার হাজার ৪০০ জন। তাদের মধ্যে ৮০০ জনকে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেয়া হয়েছে। গত বছর খাদ্যসহায়তা পাওয়া জেলেদের নাম এবার বাদ দেয়া হয়েছে। পদ্মা ও যমুনা নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








