
বিশেষ সংবাদদাতা
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ৭৬৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে নির্মাণ বা পূর্তকাজে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং পরামর্শক ব্যয় বাড়ছে ৪০৫ কোটি টাকা।
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় ‘সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এ-সংক্রান্ত ব্যয় বৃদ্ধির দু’টি পৃথক ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় তিনি ভার্চুয়ালি এ বৈঠকে অংশ নেন এবং সভাপতিত্ব করেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে ‘হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় চুক্তি ও পরামর্শক ব্যয় বাড়ার দু’টি পৃথক ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ ২২ হাজার টাকা। মূল চুক্তি মূল্য ছিল ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এটি বেড়ে মোট সংশোধিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে- ‘এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ (যৌথভাবে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি)।
অন্য দিকে অপর ভেরিয়েশন প্রস্তাবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরামর্শক ব্যয় ৪০৫ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে যৌথভাবে- জাপানি প্রতিষ্ঠান ‘নিপ্পন কোয়ি কোম্পানি লিমিটেড’ ও ‘ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গ্লোবাল কোম্পানি লিমিটেড’; সিঙ্গাপুর ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সিপিজি কনসালট্যান্টস পিটিই লিমিটেড’ ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টস লিমিটেড’। পরামর্শক ব্যয়ের মূল চুক্তিমূল্য ছিল ৭৭১ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এটি বেড়ে মোট সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াচ্ছে এক হাজার ১৭৬ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
ট্রাফিগুরার কাছ থেকে ৯ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত সরকারের
দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে মোট ৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে এই এলএনজি কেনা হবে। তবে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে কার্গোর সংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচকের চেয়ে ০.১০ মার্কিন ডলার কম। তবে মোট আমদানি ব্যয় নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ের আন্তর্জাতিক বাজারদর, সরবরাহের পরিমাণ এবং চুক্তির অন্যান্য শর্তের ওপর।
মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়া হয়। থাইল্যান্ড থেকে অনলাইনে এই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন অর্থমন্ত্রী। গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং গ্যাসভিত্তিক অন্যান্য খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে সরকার নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি আমদানি করে থাকে। এর অংশ হিসেবে দেশের গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির আরো কয়েকটি নীতিগত প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। উল্লেখ্য, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে এসব কার্গো আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে তিন ক্যাটাগরির মোট দুই লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির ছয়টি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে-
রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতি মেট্রিক টন ৪৪৬.৬৭ ডলার দরে সৌদি আরবের ‘সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি’ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে বাংলাদেশী মুদ্রায় ব্যয় হবে ২২০ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সিএফআর ভিত্তিতে প্রতি মেট্রিক টন ৫৩১.৬৭ ডলার দরে ‘ফার্টিগ্লোব-ইউএই’ থেকে ৪২ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে বাংলাদেশী মুদ্রায় ব্যয় হবে ২৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতি মেট্রিক টন ৩৮৩.৮০ ডলার দরে রাশিয়ার ‘জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রুডিনটর্গ)’ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক এমওপি সার আমদানিতে বাংলাদেশী মুদ্রায় ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতি মেট্রিক টন ৩৮২.৩৮ ডলার দরে ‘কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন’ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন করে দু’টি পৃথক লটে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানিতে বাংলাদেশী মুদ্রায় মোট ব্যয় হবে ৩৭৭ কোটি ৭৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় প্রতি মেট্রিক টন ৮৬১.৫০ ডলার দরে সৌদি আরবের ‘মা-এডেন’ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানিতে বাংলাদেশী মুদ্রায় ব্যয় হবে ৪২৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।
১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি ক্রয়
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে ই-জিপির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দু’টি পৃথক প্রস্তাবে ৫০ কেজির বস্তায় মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পাঁচ হাজার মেট্রিক টন করে দু’টি প্রস্তাবেই চিনি সরবরাহের কাজটি পেয়েছে ‘মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড’। তবে দু’টি প্রস্তাবের দর ভিন্ন। এতে দুই ক্রয় প্রস্তাবে মোট ব্যয় পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে ৫০ লাখ টাকা।
প্রথম প্রস্তাবে প্রতি কেজি ১০২ টাকা ৯৫ পয়সা দরে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন চিনি ক্রয়ে মোট ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
আর দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রতি কেজি ১০৩ টাকা ৯৫ পয়সা দরে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন চিনি ক্রয়ে মোট ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








