
চট্টগ্রাম ব্যুরো
সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা ও অনলাইনের মাধ্যমে সংঘটিত আন্তর্জাতিক জালিয়াতি দমনে দেশের আটটি বিভাগীয় সদরে জরুরি ভিত্তিতে ‘ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার’ স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। একইসাথে কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পুলিশের প্রযুক্তিগত তদন্ত সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানোর বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ লাইন্সের দামপাড়ায় আধুনিক সাইবার পুলিশ কেন্দ্র ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
এ সময় মন্ত্রী জানান, অপরাধের প্রথাগত ধরন দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, ভুয়া ওয়েবসাইট, পরিচয় জালিয়াতি, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল এবং অনলাইন ব্যাংকিং প্রতারণার পাশাপাশি শেয়ারবাজারের কারসাজির মতো জটিল ঘটনাগুলো এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রুত আলামত সংগ্রহ ও আসামি চিহ্নিতকরণে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের যৌথ সহযোগিতায় নির্মিত এই কেন্দ্র ও পরীক্ষাগারটি সিআইডির (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) নেতৃত্বে পরিচালিত হলেও তদন্ত ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে পুলিশের সব কটি শাখার মধ্যে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা থাকবে। পর্যায়ক্রমে দেশের আটটি বিভাগীয় সদরে এই ল্যাব সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দ্রুততম সময়ে বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।’ তিনি বলেন, সাইবার হুমকি মোকাবেলায় নতুন গঠিত পুলিশ সাইবার ইউনিট ইতোমধ্যে ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (কোইকা) সহায়তায় প্রায় ৫৯ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ সাইবার পরিসর’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে এই ১০ তলা ভিত্তির ভবনে আধুনিক ল্যাব ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, সাঈদ আল নোমান এমপি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো: আলী হোসেন ফকির, সিআইডির অপরাধ তদন্ত কর্মকর্তা এবং কোইকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








