
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে রাঙ্গামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে যাতায়াত সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় সড়ক অবরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বলে জারি করা এই নিষেধাজ্ঞা যদি টানা ১০ দিনও বহাল থাকে, তবে আবাসন, পরিবহন ও রেস্তোরাঁ খাতে ক্ষতির অঙ্ক পাঁচ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আভাস দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
সম্প্রতি ‘সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি’ ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা সড়ক অবরোধে পর্যটকদের যাতায়াত বিঘিœত হয়। সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। প্রশাসনের নির্দেশে গত মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যেই অবশ্য সব পর্যটক সাজেক ছেড়ে চলে যান; কিন্তু এর পরপরই থমকে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় অর্থনীতি।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের হিসাব বলছে, সাজেকে ছোট-বড় মিলে ১৩৫টি রিসোর্টের ৬৭৫টি কক্ষ থেকে দৈনিক অন্তত ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় হতো। এর বাইরে দৈনিক যাতায়াত করা প্রায় ২০০ পর্যটকবাহী গাড়ির বাজার ছিল প্রতিদিন ২৬ লাখ টাকার মতো। সেই হিসাবে আগামী ১০ দিনে কেবল আবাসন ও পরিবহন খাতেই সম্ভাব্য আয়ের মুখ থুবড়ে পড়ার অঙ্ক দাঁড়াবে চার কোটি ৮৫ লাখ টাকা। শতধিক রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসার লোকসান যোগ করলে এই ক্ষতি সহজেই ছাড়িয়ে যাবে পাঁচ কোটি টাকা।
অক্টোবরের মাঝামাঝি দুর্গাপূজার টানা ছুটি সামনে রেখে এবার পর্যটকের ঢল নামার প্রত্যাশায় ছিলেন ব্যবসায়ীরা; অগ্রিম বুকিংও হয়েছিল প্রচুর। তবে হঠাৎ এই অচলাবস্থায় বুকিংয়ের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কটেজ ও রিসোর্ট মালিকরা। ভরা মৌসুমের শুরুতেই এমন বড় আর্থিক ধাক্কা সামলানো অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্যই কঠিন হয়ে পড়বে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








