আদালত চত্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়ায় নারায়ণগঞ্জে সরব হওয়ার চেষ্টায় আইভী

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 
হত্যাসহ একাধিক মামলায় জামিনে থাকা নারায়ণগঞ্জে সাবেক মেয়র কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সবেক জেলা সহসভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভী সরব হওয়ার চেষ্টা করছেন। হত্যা মামলায় মঙ্গলবার জামিন নেয়ার পর আদালত চত্বরে আইভী জয় বাংলা স্লোগান ধরেন। 
এ সময় তার সাথে থাকা শুভাকাক্সক্ষীরাও স্লোগানে যুক্ত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার মধ্য রাতে আইভীর আইনজীবীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করার পর গতকাল বুধবার আদালতে পাঠানো হয়।  
এ দিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার দুপুরে আদালত চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে করেন বিএনপি নেতারা। তারা সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর অনুসারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন আইভী। তিনি আদালতপাড়াতে স্লোগান দিয়ে নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চাইছেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারাও জড়ো হন।  
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজা রিপন  সাবেক মেয়র আইভীকে উদ্দেশ করে বলেন, আপা আপনি মুচলেকা দিয়ে জামিন পেয়েছেন। বলেছেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবেন না। আপনি জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আগের মতো রক্ত গরম করার রাজনীতি কইরেন না। বাসায় একটু আরামে ঘুমান। আপনার বাসায় যাইনি, আপনাকে ডিস্টার্ব করি নাই। আপনার সঙ্গে যারা ছিল যারা থাকবে তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। আপনি এমন কোনো কাজ কইরেন না যাতে সাধারণ নেতাকর্মীরা বাসায় থাকতে না পারে। 
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, সাবেক মেয়র আপনাকে শান্তিতে বাড়িতে ঘুমাতে দিয়েছি। আপনি যদি নিষিদ্ধ স্লোগান দিয়ে নারায়ণগঞ্জকে উত্তপ্ত করতে চান তাহলে কিন্তু আপনার হোয়াইট হাউজের বাড়ির ইটও থাকবে না। একজন কিন্তু ভারতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন, আপনিও কিন্তু ভালো থাকবেন না। 
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি আদালত প্রাঙ্গণে এসে রাজনীতি করতে চাচ্ছেন। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারকে পুনর্বাসন করতে চান। নারায়ণগঞ্জের মানুষ এ অভিলাষ পূর্ণ করতে দেবে না। যারা আদালতপাড়ায় স্লোগান দিয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে ছবি দেখে গ্রেফতার করা হবে। যদি আগামীতে গ্রেফতারে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হয় ও ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে।

Advertisement