গ্যাস পেলেই উৎপাদনে ফিরতে চায় আশুগঞ্জ সারকারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে চায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা। বছরে পাঁচ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন এ কারখানাটি গ্যাসসঙ্কটের কারণে বন্ধ থাকায় দেশের সার উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় পরিমাণে ও নির্ধারিত চাপে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা গেলে দেশে ইউরিয়া উৎপাদন বাড়বে, সার আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। একই সাথে কৃষকের চাহিদা পূরণ ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিআইসি পরিচালিত এ কারখানার নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৮০ সালে। ১৯৮১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৮৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় বাণিজ্যিক উৎপাদন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ ও স্মৃতির সাথে জড়িয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানটি একসময় ‘জিয়া সারকারখানা’ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে এর নাম পরিবর্তন করে আশুগঞ্জ সারকারখানা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি- কারখানাটির ঐতিহাসিক নাম ‘জিয়া ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড’ পুনর্বহাল এবং দ্রুত উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে ইউরিয়া সার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বার্ষিক চাহিদা ২৭ লাখ মেট্রিক টন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিপুল চাহিদার একটি অংশ দেশীয় কারখানাগুলোর মাধ্যমে পূরণ করা গেলে আমদানির ওপর চাপ কমবে। আশুগঞ্জ সারকারখানার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫ লাখ ২৮ হাজার টন। এ সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হলে দেশের সার সরবরাহব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ইউরিয়া সার আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। বিশ্ববাজারে সারের দাম, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা দেশের সার ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে আমদানির প্রয়োজন কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক বাজারের অস্থিরতার ঝুঁকিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে প্রকৃত আর্থিক সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম, উৎপাদন ব্যয় এবং কারখানার কার্যকর উৎপাদন সক্ষমতার ওপর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের চাপ ও সরবরাহে ঘাটতি থাকলে এ ধরনের সার উৎপাদনপ্রক্রিয়া সচল রাখা কঠিন। তাই কারখানাটির উৎপাদন পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস বরাদ্দ, সরবরাহব্যবস্থার কারিগরি সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ দিকে স্থানীয়দের দাবি- জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষির স্বার্থ বিবেচনায় আশুগঞ্জ সারকারখানায় গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রয়োজনে যেসব শিল্পে সাময়িকভাবে গ্যাস ব্যবহার সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করে গ্যাস বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিল্পের উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক গুরুত্বও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, শুধু গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করলেই হবে না, কারখানার যন্ত্রপাতির বর্তমান অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ, উৎপাদন ব্যয় এবং পরিবেশগত ও নিরাপত্তাব্যবস্থাও মূল্যায়ন করা জরুরি। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে উৎপাদন পুনরায় শুরুর আগে কারিগরি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। একই সাথে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বিসিআইসি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আশুগঞ্জ সারকারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে দেশের সার সরবরাহব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে কৃষি মৌসুমে সারের চাহিদা বাড়ার সময় দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে। এতে সময়মতো সার সরবরাহের সুযোগ বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা বলছেন, কারখানাটি সচল করা এবং এর ঐতিহাসিক নাম পুনর্বহালের বিষয়টি দ্রুত বিবেচনা করা উচিত। তাদের দাবি- জাতীয় অর্থনীতি, কৃষকের স্বার্থ ও খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।