ধীরগতির প্রকল্প অনুসন্ধান, অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ

 সংসদ প্রতিবেদক
সরকারি বরাদ্দের পরও ধীরগতিতে চলা প্রকল্পগুলোর কারণ অনুসন্ধান এবং প্রশাসনে অবহেলা ও অসহযোগিতায় জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। একই সাথে নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সভাপতি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক বা বাস্তব কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে কমিটির সামনে তুলে ধরতে হবে। কোনো বিষয় গোপন না করে প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রাসঙ্গিক নথি ও বাস্তব পরিস্থিতি উপস্থাপন করতে হবে।
সাঈদ আহমেদ বলেন, নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে নাগরিকের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় হয়। তাই সেবায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। 
প্রচলিত ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী- কোনো দলের, ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর নন।’
কমিটিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানিয়ে সভাপতি বলেন, এটি সবার কমিটি। সবাই মিলে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। বিভিন্ন জায়গা থেকে এলেও এ কমিটিতে সবার অভিন্ন পরিচয়- তারা জনগণের প্রতিনিধি। বৈঠকে সরকারের ‘সবার উপরে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে সরকারি কার্যক্রমে কোনো ধরনের অসহযোগিতা বা অবহেলা হচ্ছে কি না, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্র মেরামতে মননশীলতার পরিবর্তন ঘটিয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ৩১ দফা সংস্কার বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ দেয় কমিটি।
বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতর, সরকারি যানবাহন অধিদফতর, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, বিয়াম ফাউন্ডেশন, জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি (নাডা) এবং জাতীয় পরিকল্পনা উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
এসব দফতর ও সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি সরকারি বাজেট বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), শাহজাহান চৌধুরী, মো: আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার রানু ও মো: নূরুল ইসলাম অংশ নেন।
এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement