
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন-মায়ারবাড়ী-ডাঙ্গা সড়কের মাঝখানে প্রায় অর্ধশত বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খুঁটি না সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করায় বর্তমানে পথচারী ও চালকদের কাছে পথটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পুরো দমে যানবাহন চলাচল শুরু হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী পলাশ উপজেলার সাথে সহজ যোগাযোগের লক্ষ্যে সরকারি অর্থায়নে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাড়ে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক ২৪ ফুটে প্রশস্ত করা হচ্ছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী সাগর ইনফো বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে।
তবে প্রশস্ত করার ফলে সাড়ে চার কিলোমিটার অংশে শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি এসে পড়ে, যার মধ্যে ৪৬টি খুঁটি স্থান পেয়েছে সড়কের একেবারে মাঝখানে। কাজ শুরুর আগে খুঁটি সরানোর আবেদন করা হলে নারায়ণগঞ্জের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়। কিন্তু সওজ কর্তৃপক্ষ বাজেট জটিলতায় সেই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। ফলে খুঁটিগুলো পূর্বের স্থানে রেখেই তড়িঘড়ি করে সড়ক ঢালাইয়ের কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ওপর খুঁটি থাকায় যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রাতের আঁধারে খুঁটি দেখতে না পেয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। তারাইল গ্রামের বাসিন্দা নূর আলম বলেন, সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে কাজ শেষ করা চরম দায়িত্বে অবহেলা। রাতে চলাচল করতে গিয়ে চালকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নারায়ণগঞ্জের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ জানান, খুঁটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে।
সওজ নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, খুঁটি সরাতে প্রয়োজনীয় বাজেটের জন্য প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই পল্লী বিদ্যুৎকে অর্থ পরিশোধ করা হবে। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আবদুল্লাহ বিন শফিক জানান, দ্রুতই আলোচনার মাধ্যমে সড়ক থেকে খুঁটিগুলো অপসারণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








