
চাকরি পাবেন কতজন, উদ্যোক্তা হবেন কতজন- সুনির্দিষ্ট ফলাফলই এখন বড় প্রশ্ন
- ১ লাখ ৯০ হাজার ৮০ জনকে প্রশিক্ষণে ২,৮১২ কোটি টাকা
- শুধু প্রশিক্ষণেই ২,০২০ কোটি জনপ্রতি ১ লাখ ৬ হাজার টাকা
- ৪৯৬ উপজেলায় তিন বছরে প্রকল্প, বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য ৫০ হাজার
দেশের বেকার ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগে জনপ্রতি প্রায় দেড় লাখ টাকা সরকারি ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক লাখ ৯০ হাজার ৮০ জনকে বিভিন্ন কারিগরি, তথ্যপ্রযুক্তি, ভাষা ও সফট স্কিল প্রশিক্ষণ দিতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ প্রস্তাব করেছে দুই হাজার ৮১২ কোটি ২২ লাখ টাকার প্রকল্প। এর মধ্যে শুধু প্রশিক্ষণ বাবদই ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ১৯ কোটি ৯৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রশিক্ষণার্থীপ্রতি শুধু প্রশিক্ষণ ব্যয় প্রায় এক লাখ ছয় হাজার ২৭১ টাকা।
প্রশিক্ষণ, পরামর্শক, গাড়ি, সরঞ্জাম, সভা-সেমিনার, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, ভ্রমণ, গবেষণা, সম্মানীসহ পুরো প্রকল্পের ব্যয় বিবেচনায় নিলে একজনকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের গড় ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় এক লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৫ টাকা। প্রশ্ন হচ্ছে-এ দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে একজন বেকার শেষ পর্যন্ত কী পাবেন? প্রশিক্ষণ ও সনদ, নাকি নিশ্চিত কর্মসংস্থান? কতজন দেশে চাকরি পাবেন, কতজন বিদেশে যাবেন, কতজন উদ্যোক্তা হবেন-তার সুনির্দিষ্ট হিসাব এখনো প্রকল্পের মূল লক্ষ্যে স্পষ্ট নয়। অথচ প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্যই হলো কর্মসংস্থান ও বিদেশীশি শ্রমবাজারের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের নাম ‘সমবায়ের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন’। সমবায় অধিদফতর এটি বাস্তবায়ন করবে। প্রস্তাবিত মেয়াদ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দেশের সব বিভাগ ও জেলার ৪৯৬টি উপজেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পিইসি বিভিন্ন বিষয়ে সংশোধন ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের নির্দেশনা দিয়েছে।
প্রশিক্ষণেই খরচ ২ হাজার ২০ কোটি
প্রকল্পের ব্যয়ের কাঠামো বিশ্লেষণ করলে সবচেয়ে বড় অঙ্কটি চোখে পড়ে প্রশিক্ষণ খাতে। এক লাখ ৯০ হাজার ৮০ জনকে প্রশিক্ষণ দিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই হাজার ১৯ কোটি ৯৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
হিসাবটি সরল। এ অর্থকে মোট প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে প্রশিক্ষণার্থীপ্রতি শুধু প্রশিক্ষণ ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ছয় হাজার ২৭১ টাকা।
কিন্তু প্রকল্পের মোট ব্যয় এর চেয়েও অনেক বেশি। মোট দুই হাজার ৮১২ কোটি ২২ লাখ টাকা একই সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ভাগ করলে জনপ্রতি গড় ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৫ টাকা।
অর্থাৎ একজন বেকারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে সরকারের গড় ব্যয় প্রায় দেড় লাখ টাকা।
এ ব্যয়ের বড় অংশ প্রশিক্ষণের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত হলেও প্রকল্পে আরও রয়েছে হার্ডওয়্যার, সেমিনার ও কনফারেন্স, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, বইপত্র ও প্রশিক্ষণসামগ্রী, প্রকাশনা, অটোমোবাইল, ভ্রমণ, মুদ্রণ ও বাঁধাই, মনিহারি, পোশাক, কনসালটেন্সি, গবেষণা, সার্ভে/ফিল্ড টেস্ট ও ল্যাব, সম্মানী এবং অফিস সরঞ্জামের মতো খাত।
শুধু অটোমোবাইল খাতেই ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। সম্মানী খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাত কোটি ৩০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।
এ অবস্থায় প্রকল্পটির ব্যয়ের কাঠামো নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে-দক্ষতা উন্নয়নের প্রকল্পে কত টাকা সরাসরি প্রশিক্ষণার্থীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে যাচ্ছে এবং কত টাকা প্রকল্প পরিচালনার আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় হচ্ছে?
৪৯৬ উপজেলায় প্রশিক্ষণ
প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৯৬টি উপজেলায় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নেয়া হবে এক লাখ ৯০ হাজার ৮০ জনকে।
প্রশিক্ষণের বিষয়ও কম নয়। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিং, মেশিনারি ও টেইলারিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং, বেকিং অ্যান্ড কেক মেকিং এবং ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন।
প্রকল্পের যুক্তি হলো-বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা ও শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু বিশেষ করে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা ও ভাষাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত।
এ বাস্তবতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
কাগজে লক্ষ্যটি আকর্ষণীয়। কিন্তু বাস্তব সাফল্যের প্রশ্নটি অন্য জায়গায়।
প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর প্রশিক্ষণার্থীদের কী হবে?
বিদেশে পাঠানো হবে ৫০ হাজার : প্রকল্পের অন্যতম বড় লক্ষ্য বৈদেশিক কর্মসংস্থান। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে ৫০ হাজার জনকে বিদেশী শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষতা বাড়লে একদিকে দেশে কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অন্য দিকে বিদেশী শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়বে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও সম্প্রসারিত হবে।
কিন্তু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫০ হাজার মানুষের বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি কিভাবে নিশ্চিত হবে, কোন কোন দেশের কোন শ্রমবাজারে তাদের চাহিদা রয়েছে, নিয়োগদাতাদের সাথে কী ধরনের সংযোগ তৈরি করা হবে-প্রকল্পের ব্যয়ের তুলনায় এসব বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতার সনদ পেলেই বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন হয় স্বীকৃত সনদ, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, নিয়োগদাতার চাহিদা এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার সাথে কার্যকর সংযোগ।
ফলে ৫০ হাজার জনকে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যটি বাস্তবে কতটা অর্জিত হয়, সেটিই প্রকল্পের বড় পরীক্ষায় পরিণত হবে।
৬০ শতাংশ নারী, উদ্যোক্তা করার লক্ষ্য ২০,৭৫০ : প্রকল্পে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২০ হাজার ৭৫০ জন নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বাড়তে পারে। তবে প্রশিক্ষণের পর মূলধন, ঋণ, বাজারসংযোগ, পণ্য বিপণন ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনার সহায়তা না থাকলে শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে টেকসই উদ্যোক্তা তৈরি কতটা সম্ভব হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
কারা পাবেন প্রশিক্ষণ?
প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন নিয়েও পিইসি সতর্কতা দিয়েছে। ৩০ হাজার প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য ও পুনঃপরীক্ষণযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পে নিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা, কার্যপরিধি ও যোগ্যতা পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণের মান নিয়েও নির্দেশনা রয়েছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষণ মডিউলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কোর্স ডিজাইন করার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজে লাগানোর কথাও বলা হয়েছে।
অর্থাৎ প্রকল্পের পরিকল্পনায় প্রশিক্ষণের মান ও প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রশিক্ষণের বাজারমূল্য কতটা হবে-সেটি নির্ভর করবে প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তব কর্মসংস্থানের ওপর।
‘সনদ’ নয়, ফলাফল দেখতে চায় পরিকল্পনা কমিশন
প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এসেছে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলেছে, প্রকল্পটিকে শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে সনদ দেয়ার কর্মসূচি হিসেবে না দেখে ফলাফলভিত্তিক করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অর্থাৎ কতজন প্রশিক্ষণ নিলেন, কতজন সনদ পেলেন-শুধু এ দুই সংখ্যায় প্রকল্পের সাফল্য নির্ধারণ করা যাবে না।
প্রকল্প শেষে সফলতা যাচাই করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। প্রশিক্ষণের পর প্রশিক্ষণার্থীদের জীবনযাত্রা, আয় এবং আর্থসামাজিক অবস্থার কতটা পরিবর্তন হয়েছে, সেটিও মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে।
এ জন্য প্রকল্প শুরুর সময়কার প্রশিক্ষণার্থীদের জীবনযাত্রা ও আর্থসামাজিক অবস্থার সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী অবস্থার তুলনামূলক মূল্যায়ন করার কথা বলা হয়েছে।
এ পর্যবেক্ষণই প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রশিক্ষণ কি নিজেই সাফল্য, নাকি প্রশিক্ষণের পর আয় ও কর্মসংস্থান বাড়াটাই সাফল্য?
দেড় লাখ টাকার বিনিয়োগের ফল কোথায়?
বাংলাদেশে বেকার ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন নিঃসন্দেহে প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা, ভাষা ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা তৈরি করা হলে তা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ব্যয়ের বিপরীতে ফলাফল।
এক লাখ ৯০ হাজার ৮০ জনকে দক্ষ করতে দুই হাজার ৮১২ কোটি টাকা খরচ হবে। প্রশিক্ষণ বাবদই যাবে দুই হাজার ২০ কোটি টাকা। জনপ্রতি মোট ব্যয় প্রায় দেড় লাখ টাকা।
এ বিপুল বিনিয়োগের পর যদি প্রশিক্ষণার্থীদের বড় অংশ আবার বেকারই থেকে যান, তাহলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হবে?
আবার যদি ৫০ হাজার মানুষকে সত্যিই বিদেশি শ্রমবাজারে পাঠানো যায়, হাজার হাজার মানুষ দেশে চাকরি পান এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী ও তরুণ টেকসই উদ্যোক্তায় পরিণত হন, তাহলে এ বিনিয়োগের অর্থনৈতিক সুফল অনেক বড় হতে পারে। তাই প্রকল্পটির সাফল্যের মাপকাঠি প্রশিক্ষণের সংখ্যা নয়, কর্মসংস্থানের সংখ্যা হওয়া প্রয়োজন।
পরিকল্পনা কমিশনের ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের নির্দেশনাও মূলত সেই প্রশ্নটিকেই সামনে এনেছে।
প্রকল্পের সামনে ৩ বড় পরীক্ষা
প্রথমত, প্রশিক্ষণের মান। বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও তা যদি শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয় করেও কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে না।
দ্বিতীয়ত, প্রশিক্ষণ থেকে কর্মসংস্থানে যাওয়ার সেতু। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও চাকরির বাজারের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি না হলে প্রশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়লেও কর্মসংস্থান বাড়বে না।
তৃতীয়ত, ফলাফল পরিমাপ। ৫০ হাজার বিদেশগামী কর্মী, দেশীয় কর্মসংস্থান এবং ২০ হাজার ৭৫০ নারী উদ্যোক্তার লক্ষ্য কতটা অর্জিত হলো-তার স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
কারণ সরকারি অর্থে প্রশিক্ষণ নিয়ে একজন মানুষ সনদ পেলেন-এটি প্রকল্পের শুরু হতে পারে; কিন্তু তার আয় বাড়ল কি না, চাকরি হলো কি না, বিদেশে গেলেন কি না, ব্যবসা দাঁড় করাতে পারলেন কি না-সেখানেই প্রকল্পের আসল সাফল্য।
দুই হাজার ৮১২ কোটি টাকার এ প্রকল্প এখন সেই পরীক্ষার মুখেই দাঁড়িয়ে আছে।
দেড় লাখ টাকা করে ব্যয় করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে-নাকি তৈরি হবে শুধু প্রশিক্ষণ ও সনদের সংখ্যা, তার উত্তর মিলবে ২০২৯ সালের শেষেই।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








