
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরহস্তে দমন করা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অপরাধী সে অপরাধীই।
মন্ত্রী গতকাল রোববার দুপুরে নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, মিরপুরের শাহআলী থানা এলাকায় রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে সংঘটিত উক্ত ঘটনায় শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। ঘটনাটি সরেজমিন পর্যবেক্ষণের জন্য ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ ইতোমধ্যে ৯ আসামিকে গ্রেফতারসহ বেশ কিছু মালামাল ও আলামত উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সব অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির বিতর্ক নিয়ে মন্ত্রী জানান, ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকায় একটি বিতর্কিত জমি (প্রায় ৩৫ কাঠা) নিয়ে নিউ গিনি প্রপার্টিজ নামক একটি বিল্ডার গোষ্ঠী এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে রাতে একপক্ষ দখল করতে গেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেড স্টুডিও ভাঙচুরের শিকার হয়। ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে গ্রেফতার এবং গুলির খোসাসহ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করেছে।
উক্ত ঘটনায় ফেসবুক লাইভে এসে বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে অভিযোগ উত্থাপন করা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়া ঢালাও অভিযোগের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ভুক্তভোগী লিখিত মামলা করলে পুলিশ গুরুত্বের সাথে পুরো বিষয়টির সুনির্দিষ্ট তদন্ত করবে।
এ দিকে রাজধানীর জাসদ কার্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠক ও পুলিশি অভিযান প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, উক্ত কার্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য একত্র হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাথমিক আটক করা প্রায় ২৮০ জনের মধ্যে বেশির ভাগকেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৭ জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে নাশকতায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও মামলা করা হবে। কাউকে অযথা হয়রানি করার উদ্দেশে এই অভিযান চালানো হয়নি। ককটেল বিস্ফোরণ ও রাজপথের আন্দোলন সম্পর্কিত এক নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘অসংলগ্ন ও ভারসাম্যহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে সার্বিক বিষয়টি মূল্যায়নের দায়িত্ব সচেতন জনগণের ওপর ছেড়ে দেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়মিত ও প্রশাসনিক বদলি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব অবহেলা বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা থাকলে শুধু বদলিই শেষ পদক্ষেপ নয়। কোনো কর্মকর্তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মামলায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতঃপূর্বে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের নজির উল্লেখ করে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, পুলিশ বাহিনীতে অপরাধ বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্ত্রী বলেন।
সিঙ্গাপুরের বিদায়ী চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে গতকাল সচিবালয়ে তার অফিস কক্ষে সিঙ্গাপুরের বিদায়ী চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে সুদীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের সীমান্ত নিরাপত্তা আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা, সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি (ঈযধৎমব ফ’অভভধরৎবং) বাংলাদেশের সীমান্ত ও ইমিগ্রেশন নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারিগরি সহায়তার ব্যাপারে সিঙ্গাপুরের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্য পরিধি প্রতিনিয়ত বিস্তৃত হচ্ছে। বাণিজ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে শিগগিরই বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ হাইকমিশনার নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের সাথে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত ও বিমানবন্দরগুলোতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। এ ছাড়া উগ্রবাদ মোকাবেলা, পুলিশের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।








