
সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দফতরে কাঠের আসবাবপত্রের পরিবর্তে প্লাস্টিকের বেঞ্চ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে দেশীয় ফার্নিচার শিল্পসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। একই সাথে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে সুষ্ঠু ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ফার্নিচার মালিক সমিতির চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান ও মহাসচিব এ করিম মজুমদার স্বাক্ষরিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ফার্নিচার শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনমুখী ও শ্রমনির্ভর খাত।
শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কাঠমিস্ত্রি, কারিগর, শ্রমিক, পরিবেশক ও সরবরাহকারীরা এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের স্মারক নং- ৩৭.০০.০০০০.০৮১.৯৯.০০১.১৭-২৪৬-এর মাধ্যমে প্রেরিত সভার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার ১৫ নম্বর ক্রমিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কাঠের বেঞ্চের পরিবর্তে শ্রেণিভিত্তিক প্রোটোটাইপ অনুযায়ী দৃষ্টিনন্দন প্লাস্টিকের বেঞ্চ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগকে দেয়া হয়েছে।
আবেদনকারীদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে এর অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, কারিগরি ও শিল্পখাতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কারণ, কাঠের বেঞ্চের পরিবর্তে প্লাস্টিকের বেঞ্চ ব্যবহারের বিষয়টি শুধু আসবাবপত্রের উপকরণ পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সাথে দেশীয় শিল্পের উৎপাদন, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা এবং সরকারি ক্রয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ও জড়িত।
তাদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিক ফার্নিচারের জন্য বড় ও দীর্ঘমেয়াদি বাজার তৈরি হতে পারে। এর ফলে কাঠ ও বোর্ডভিত্তিক ফার্নিচার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি এ শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট উপকরণ বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে জাতীয় অর্থনীতি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে তুলনামূলক মূল্যায়নের দাবি: আবেদনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের ১৫ নম্বর ক্রমিকের নির্দেশনা বাস্তবায়নের আগে কাঠ ও প্লাস্টিকের বেঞ্চের স্থায়িত্ব, ব্যবহারযোগ্যতা, নিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব, মেরামতযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ব্যয়ের তুলনামূলক মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, কোনো একটি উপকরণকে এককভাবে প্রাধান্য না দিয়ে গুণগত মান, স্থায়িত্ব, ব্যবহার উপযোগিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনায় নিয়ে আসবাবপত্র ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সরকারি ক্রয়ে অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান
আবেদনে আরো বলা হয়েছে, সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়ায় সব যোগ্য উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারীর অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এমন কোনো শর্ত বা নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়, যার ফলে নির্দিষ্ট কোনো উপকরণ বা উৎপাদনকারী গোষ্ঠী একচেটিয়া সুবিধা পায়।
দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের উদ্যোক্তারা মনে করেন, কাঠ, বোর্ড ও প্লাস্টিক—সব ধরনের আসবাবপত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এতে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে।
আবেদনে প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা, উৎপাদনকারী, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের মতামত গ্রহণ করে একটি সমন্বিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের সক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দফতরের আসবাবপত্র ক্রয়ের নীতিমালা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








