দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, দুর্গাপূজায় নিরাপত্তাব্যবস্থা, শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ, মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ,
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক। সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

Advertisement

আজ থেকে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়াদানের জন্য ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডিজিটাল নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আনসার-ভিডিপি সদর দফতরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এসব তথ্য জানান।

বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মোতায়েন করা সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৮ জন পুরুষ এবং ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী। পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় তিন শ্রেণিতে নিরাপত্তা জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৬ হাজার ৯১৪টি মণ্ডপে প্রতিটিতে আটজন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ১১ হাজার ৭৮১টি ও সাধারণ ১৪ হাজার ৪৭০টি মণ্ডপে প্রতিটিতে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘গত দুই বছরে তৃণমূলভিত্তিক সংস্কার, প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বাহিনীতে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মমুখী শিক্ষার নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চালু করা হয়েছে কলেজভিত্তিক ভিডিপি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও জননিরাপত্তায় অংশগ্রহণের উপযোগী দক্ষ লোকবল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এবারের দুর্গাপূজায় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতার বাস্তব প্রয়োগ ঘটাবেন।’

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরে মহাপরিচালক জানান, ‘AVMIS-এর মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ সদস্যের তথ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, STDMS-এর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ও মোতায়েন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। আধুনিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সদস্যদের ভাতা সরাসরি তাদের নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নিরাপত্তা কার্যক্রমের তদারকি ও তাৎক্ষণিক সাড়াদানে ব্যবহৃত ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর কার্যকারিতা তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, ‘End-User, Responder ও Oversight Panel-ভিত্তিক এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ ও কার্যকর হচ্ছে।’

পূজামণ্ডপে নিয়োজিত ভিডিপি সদস্যরা End-User হিসেবে নিরাপত্তার প্রথম সারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ ও তাৎক্ষণিক সাড়াদানে ভূমিকা রাখবেন। Responder হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে পারবে। পাশাপাশি, Oversight Panel-এর মাধ্যমে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, ঘটনা ও দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং গুজব প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও সমস্যা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

মহাপরিচালক জানান, ‘জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় সারাদেশে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

এছাড়া জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সভায় তিনজন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আশা করছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমুন্নত রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

মতবিনিময় সভায় বাহিনীর সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্তরের গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।