
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ধারাবাহিকভাবে হেনস্তা করা, তার বিরুদ্ধে অনলাইনে অপপ্রচার চালানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তারা এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন দেশ সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল। বছরের পর বছর লাগামহীন অর্থনৈতিক লুণ্ঠন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেঙে পড়া, দুর্নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরাচার এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনে দেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে দেশকে পুনর্গঠনের বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিয়মিতভাবে সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো জঘন্য পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছিল এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এতে আরো বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এর মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা ছিল।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ করা যাচ্ছে, কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও স্বার্থান্বেষী মহল বিরামহীনভাবে বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এবং অধ্যাপক ইউনূসকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ ধরনের কাপুরুষোচিত অপকৌশলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, এসব তৎপরতার উদ্দেশ্য হলো দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।
বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয়, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যাচার, অনলাইনে হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি- কোনো কিছুই জুলাই যে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে এসেছিল, তা বাস্তবায়নে তাদের দৃঢ় সংকল্পকে টলাতে পারবে না।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ এবং তরুণ সমাজের অগনিত আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংস্কার ও মর্যাদার ঐতিহাসিক ম্যান্ডেটকে বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ও তার সমর্থকদের অপচেষ্টা দিয়ে মুছে ফেলা যাবে না, কখনোই যাবে না।
বিবৃতিদাতারা হলেন- অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান; অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম, ফরিদা আখতার, শারমিন এস মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








