
নয়া দিগন্তে প্রকাশিত ‘রেড ক্রিসেন্টে চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বেচ্ছাচারিতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো: আবদুস সালামের বিরুদ্ধে একক সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, নিয়োগে অনিয়ম, নির্বাচন আয়োজন নিয়ে নিষ্ক্রিয়তা এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে প্রকৃত তথ্য ও বাস্তবতার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে দাবি করেছে সোসাইটির কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনটির বিষয়ে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে সোসাইটির মহাসচিব মো: হাবিবুর রহমান খান বলেন, প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অবকাশ সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচন আয়োজন নিয়ে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ নাকচ করে প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনার জন্য নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশকৃত প্রতিনিধিদের নাম সংগ্রহ করা হয়েছে বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরো বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর আপিল বিভাগের আদেশে নির্বাচন সম্পন্ন করার সময়সীমা ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত হওয়ার বিষয়টি নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গৃহীত প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিবেচনায় না নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে দাবি করা সঠিক নয়।
মহাসচিব, উপমহাসচিব ও পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে সোসাইটি।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রম প্রযোজ্য নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেন, অনৈতিক সুবিধা প্রদান কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে বিধিবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত নয়।
প্রতিবাদলিপিতে ২২ জনকে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ, লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য ব্যক্তিদের চাকরি দেয়া এবং পূর্ববর্তী সময়ে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিয়োগ সম্পন্ন করার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়, এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সোসাইটির দাবি, নিয়োগ-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা নথিপত্র ও প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা যেতে পারে। তবে যথাযথ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে বক্তব্য গ্রহণ ছাড়া অপ্রমাণিত অভিযোগ প্রকাশ প্রতিষ্ঠানের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের লিফট ক্রয়ের ব্যয় নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আলোচ্য লিফটটি হাসপাতালের এবং এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হাসপাতালের ম্যানেজিং বোর্ডের সদস্যদের সম্মতিক্রমে নেয়া হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়, ম্যানেজিং বোর্ডের সম্মতিতে নেয়া সিদ্ধান্তকে যথাযথ প্রেক্ষাপট ও তথ্য যাচাই না করে অনিয়মের ইঙ্গিতবাহী হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর। লিফটের মূল্য নির্ধারণ, ব্যয় হ্রাস এবং ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে তা পর্যালোচনা করা উচিত।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার খরচ মেটাতে সোসাইটির রাজস্ব খাত থেকে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি, ব্যয়ের অনুমোদন এবং অর্থ ব্যয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য যাচাই করা অপরিহার্য।
পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকদের মধ্যে অনিয়মের ধারণা তৈরি করা দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনার পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবাদলিপিতে আরো দাবি করা হয়, প্রকাশিত প্রতিবেদনে চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হলেও প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে কাছে কোনো ফোনকল পাওয়া যায়নি। সোসাইটির মতে, অভিযোগসংক্রান্ত বিষয়ে কর্তৃপরে বক্তব্য গ্রহণ ও তথ্য যাচাই করা হলে প্রতিবেদনটি আরো পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারত।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচন, প্রশাসনিক কার্যক্রম, নিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে তা তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয় প্রতিবাদলিপিতে। এতে বলা হয়, অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে এ পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।
প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো: হাবিবুর রহমান খান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








