সিনেমা সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনে শক্তিশালী মাধ্যম : তথ্যমন্ত্রী
নয়া দিগন্ত অনলাইন2 মিনিটে পড়ুন
বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান ছবি: বাসসচলচ্চিত্রকে সমাজ ও মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) অডিটোরিয়ামে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সময় সিনেমা যে বার্তা দিতো, তা আমরা হয়তো চোখ দিয়ে দেখতাম কিন্তু তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে যেত। প্রতিটি সিনেমায় নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা উচিত। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের প্রতিটি সিনেমায় সামাজিক ও মানবিক বার্তা ছিল।’
আগামী দিনে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে আগামীতে এমন কাজ করতে, যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবার কথা বলে।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের বাস্তবতা বদলেছে। বর্তমানে বহু তরুণ মাদকের ভয়াবহতায় জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বিশাল ক্ষতি। এর পাশাপাশি সমাজে নানাবিধ বৈষম্য রয়েছে। এই সঙ্কট থেকে সমাজকে পথ দেখাতে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।’
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই একসাথে কাজ করলে বাংলাদেশের সিনেমাকে আবারো তার পুরোনো ও গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় নিয়ে যেতে পারব, ইনশাআল্লাহ।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘অতীতের সোনালী দিনগুলোর তুলনায় আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি যে পর্যায়ে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, তা হয়তো হয়ে ওঠেনি। তাই শুধু এফডিসিকেন্দ্রিক নয়, বরং পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত ও উন্নত করা যায়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।’
চলচ্চিত্র অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে বিএফডিসির উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র খাতের স্বকীয়তা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘আমরা সম্ভবত সেই শেষ প্রজন্ম, যারা বাংলা সিনেমার সেরা সময়গুলোর মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। চলচ্চিত্র খাতের বর্তমান সঙ্কট কাটাতে এবং এর আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করবে।’
সূত্র : বাসস