
আশরাফুল ইসলাম
ব্যাংক-কোম্পানির মালিকানা কাঠামোয় লাগাম টানতে নতুন করে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো কোম্পানি তার নিট সম্পদের চেয়ে বেশি মূল্যমানের শেয়ার কোনো একক বা একাধিক ব্যাংক-কোম্পানিতে ধারণ করতে পারবে না। ইতোমধ্যে কোনো কোম্পানির হাতে নির্ধারিত সীমার বেশি ব্যাংক শেয়ার থাকলে তা ছয় মাসের মধ্যে নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। একই সাথে শেয়ারধারক কোম্পানির পে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ‘প্রতিনিধি পরিচালক’ নিয়োগের েেত্রও আর থাকছে না আগের মতো সুযোগ। গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক সার্কুলার জারি করা হয়েছে। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত মতাবলে জারি করা সার্কুলারটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচালক হতে হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অথবা পরিচালক হতে হবে। শুধু তাই নয়, ব্যাংকের পর্ষদে প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে মনোনয়নের আগে ওই ব্যক্তির নিজের নামে সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার মালিকানা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির েেত্র তার পরিশোধিত মূলধনের কমপে ২ শতাংশ এবং অন্যান্য কোম্পানির েেত্র কমপে ২০ শতাংশ দায়মুক্ত মালিকানা নিজের নামে রাখতে হবে। প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালের পুরো সময় এ মালিকানা বজায় রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানির মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, শেয়ারধারক কোম্পানির আর্থিক সমতার তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগ কমানো, পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক প্রতিষ্ঠানের পে মনোনীত প্রতিনিধি পরিচালকদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরণের ল্েযই এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যমান অতিরিক্ত মালিকানা সমন্বয়ের সময়সীমা। কোনো কোম্পানি ইতোমধ্যে এক বা একাধিক ব্যাংক-কোম্পানিতে তার জন্য নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি শেয়ার ধারণ করে থাকলে সার্কুলার জারির তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে সে মালিকানা নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ অতিরিক্ত শেয়ার ধরে রাখার সুযোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকছে না।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় প্রতিনিধি পরিচালকেও মালিকানার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির পে প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগের েেত্রও নতুন শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনোনীত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানির পরিচালক অথবা ব্যবস্থাপনা পরিচালক না হলে প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকবে না। এর পাশাপাশি নিজের নামে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে উল্লেখযোগ্য শেয়ার মালিকানাও থাকতে হবে। তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির েেত্র ন্যূনতম দুই শতাংশ এবং অন্যান্য কোম্পানির েেত্র ন্যূনতম ২০ শতাংশ দায়মুক্ত মালিকানা রাখার শর্ত দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনের পুরো সময় ওই মালিকানা ধরে রাখাও বাধ্যতামূলক।
সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া পরিচালক নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, শেয়ারধারক কোম্পানির পে প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের েেত্রও বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। অনুমোদনের আবেদন করার সময় মনোনীত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক কোম্পানিতে মালিকানা বা স্বত্ব থাকার প্রমাণপত্রও আবেদনের সাথে দিতে হবে। ফলে প্রতিনিধি পরিচালক মনোনয়নের েেত্র শুধু কোম্পানির সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে না; নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনও অপরিহার্য হবে।
এ দিকে নতুন নিয়ম শুধু ভবিষ্যতে নিয়োগ পেতে যাওয়া প্রতিনিধি পরিচালকদের জন্য নয়। সার্কুলার জারির অব্যবহিত আগে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির পে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিনিধি পরিচালকের পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের েেত্রও নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক একই সাথে প্রতিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সার্কুলারে উল্লেখিত বিষয় উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা ও শেয়ারধারকদেরও বিষয়টি অবহিত করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় এক দিকে ব্যাংক শেয়ার ধারণের েেত্র কোম্পানির নিট সম্পদের সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে, অন্য দিকে পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে বসার েেত্রও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোম্পানির সাথে প্রত্য সম্পর্ক ও নিজস্ব শেয়ার মালিকানা নিশ্চিত করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বÑদুই েেত্রই নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরো নির্দিষ্ট হলো।







