ইবির হলগুলোতে অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণসহ ৮ দাবি ছাত্রশিবিরের

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও শিক্ষার্থীবান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। এ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এ সময় ইবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক এমাদুর রহমান, স্কুল ও কলেজ কার্যক্রম  সম্পাদক জায়েদ হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক সোয়াইব আহম্মেদ এবং আইন সম্পাদক ফরহাদ রেজাসহ ছেলেদের পাঁচটি হলের শিবির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল কোনো রাজনৈতিক দলের অবৈধ প্রভাব বিস্তার কিংবা দলীয় লোকজনকে নিয়মবহির্ভূত আশ্রয় দেয়ার জায়গা হতে পারে না। হলের সিট একজন শিক্ষার্থীর অধিকার। সেই অধিকার মেধা, বৈধতা, জ্যেষ্ঠতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে দীর্ঘদিন ধরে সিট বণ্টন নিয়ে বৈষম্য, অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি শহীদ জিয়াউর রহমান হলের একজন রাজনৈতিক কর্মীর বৈধ সিট না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন হলে অবস্থানের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একই সাথে অন্যান্য হলের ক্ষেত্রেও অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে অভিযোগ সামনে এসেছে।
তিনি আরো বলেন, একজন বৈধ শিক্ষার্থী যেখানে আবাসিক সিটের জন্য অপেক্ষা করবে, সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ অবৈধভাবে হলে অবস্থান করবে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন হল কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন, নিয়মিত সিট বরাদ্দ এবং হলগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো, আবাসিক হলগুলো থেকে অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ বন্ধ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সিট বণ্টন, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সিট বণ্টনের তালিকা প্রকাশ, রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হলের ডাইনিংয়ে সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা।