ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার সীমা প্রত্যাহার করল ইরান
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার সীমা প্রত্যাহার করল ইরান। রয়টার্স

নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর আরোপ করা দুই হাজার কিলোমিটারের স্বেচ্ছা সীমা তুলে নিয়েছে ইরান। 

Advertisement

শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে আরো দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথে এগোতে পারে তেহরান। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আবারো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের রাজধানীর আশপাশে বিমান হামলায় ২৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির হাউছি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। এছাড়া ভারী বৃষ্টিতে গাজার বিভিন্ন এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক লাখ ফিলিস্তিনির দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

Advertisement

শনিবার (৭ নভেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্রের এ বক্তব্যের কয়েক দিন আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরাইলের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের ও মাত্রার হুমকির জবাব দেয়া হবে ভৌগোলিক সীমারেখার তোয়াক্কা না করেই।

তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর আরোপিত সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, ‘আমাদের জন্য ওই বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়েছে।’

তবে ইরানের কাছে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। শুধু জানান, বক্তব্য দিয়ে নয়, বরং বাস্তবে সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমেই ইরান তার সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে।

বর্তমানে ইরানের কাছে দুই হাজার কিলোমিটার (১ হাজার ২০০ মাইল) পাল্লার বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে জানা যায়নি। দেশটির বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্রের এই পাল্লার আওতায় রয়েছে গ্রিসের কিছু অংশ, বলকান অঞ্চল, পুরো আরব উপদ্বীপ, লেভান্ত অঞ্চল এবং মিসরের অধিকাংশ এলাকা।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরানের মহাকাশ কর্মসূচিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তিকে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।

এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর পূর্বদিকে একটি তেলবাহী জাহাজ মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। তবে জাহাজটির কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল কিংবা কোথায় যাচ্ছিল, তা জানানো হয়নি।

ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, জাহাজটি তার নৌ-চলাচল শনাক্তকারী সঙ্কেত বন্ধ করে দিয়েছিল এবং একটি ‘নিষিদ্ধ এলাকায়’ চলাচল করছিল।

সূত্র : এপি