
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমছে—এমন ধারণায় বৃহস্পতিবার টানা চতুর্থ দিনের মতো বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। চলতি সপ্তাহে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি কমতে পারে বলে মনে করছেন বাজারের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়,গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ৯৩ ডলার ৮২ সেন্টে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম কমে ১ ডলার ২০ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়ায় ৮৬ ডলার ৯২ সেন্টে। এর আগের দিন দুই ধরনের তেলের দামই ৮ শতাংশের বেশি কমেছিল। ৩১ আগস্টের পর এটিই ছিল সর্বনিম্ন দর।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সরকারসংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র বুধবার জানিয়েছে, কংগ্রেসে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। এতে তিনি যুদ্ধের বদলে সমঝোতার পথ খুঁজতে বেশি আগ্রহী হবেন। ইরানে সর্বাত্মক হামলার আশঙ্কাও এখন কম বলে মনে করছেন তারা।
যুদ্ধের অবসান হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেল বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপে কী প্রভাব ফেলে, বাজার এখনো সে হিসাব করছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে—এমন ধারণাও তেলের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চয়তায় ভরা। একই সময়ে বিশ্বের কৌশলগত তেলের মজুতও অনেক কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের হিসাবে, উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের পর্যায়ের কাছাকাছি ফিরেছে। তবে এতে খরচ বেড়েছে। জেপি মরগান বুধবার এক নোটে বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় কয়েক মাসের বাধাবিঘ্নের পর বিশ্ববাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ আবার বেড়েছে। তাদের হিসাবে, সেপ্টেম্বরে দৈনিক ১১ লাখ ব্যারেল এবং অক্টোবরে ১৪ লাখ ব্যারেল উদ্বৃত্ত ছিল। গত বছর গড় উদ্বৃত্ত ছিল দৈনিক ১৩ লাখ ব্যারেল।
তবে জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থাকবে। সিটি ব্যাংক বৃহস্পতিবার বলেছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ায় হোয়াইট হাউস পররাষ্ট্রনীতিতে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের দিকে মনোযোগ দিতে পারে। তাতে ইরানের সাথে সংঘাত আরো বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ইউরেশিয়া গ্রুপ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করেছে। তবে সমঝোতার সম্ভাবনাও ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়েছে। ইরান নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় এবং পরাজয় হিসেবে বিবেচিত কোনো শর্ত ট্রাম্প মেনে নেবেন না—এমন ধারণা থেকে এই হিসাব। দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা চলতে থাকার সম্ভাবনা ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করেছে সংস্থাটি। তাদের সতর্কতা, তেলের দাম সম্প্রতি কমলেও সংঘাত বাড়লে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১১০ থেকে ১২৫ ডলারে উঠতে পারে।
জ্বালানিবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এক্সঅ্যানালিস্টসের প্রধান নির্বাহী মুকেশ সাহদেভ বলেন, বড় দেশগুলোর বাণিজ্যিক তেলের মজুত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফল ইরানকে আরো দৃঢ় অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন বুধবার জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেল, পেট্রল ও পরিশোধিত জ্বালানির মজুত কমেছে। এ সময়ে জ্বালানির চাহিদা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








