
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই বলেছেন, ট্রাম্পকে শাস্তি না দেয়া হলে যেকোনো দেশের ইরানে হামলার সম্ভাবনা থেকে যাবে। যুদ্ধ এমনভাবে শেষ করতে হবে, যাতে কেউ আর ইরানে হামলার সাহস না পায়।
রোববার (১ নভেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থার বরাত দিয়ে পার্সটুডে এ তথ্য জানিয়েছে।
মোহসেন রেজাই বিশেষ সংবাদ সংলাপ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অঞ্চলের সর্বশেষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তেহরানে অনুষ্ঠিত চতুর্পক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
রেজাই বলেছেন, ইরানি জনগণের কণ্ঠস্বর যদি শোনা না হয়, তাহলে কোনো চুক্তি সম্পাদিত হবে না এবং এ অঞ্চলে কোনো জোটও গড়ে উঠবে না। তৃতীয় চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, যেকোনো আঞ্চলিক ব্যবস্থায় ইরানকে তার যথাযথ স্থান দিতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে ছাড়া পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
মেজর জেনারেল উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে ইরানি জাতির অধিকার মেনে নিতে ও স্বীকৃতি দিতে হবে, এরপর পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে হবে। ট্রাম্পকে শাস্তি না দেয়া হলে যেকোনো দেশের ইরানে হামলার সম্ভাবনা থাকবে এবং যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হতে হবে, যাতে কেউ আর ইরানে হামলার সাহস না পায়।
তিনি বলেন, বিদেশী শক্তিগুলোকে অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং এই অঞ্চলে একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা গড়ে উঠতে হবে। অঞ্চলের অনেকের কাছেই প্রমাণিত হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠাকারী নয়—বরং এটি নিরাপত্তাহীনতার কেন্দ্র।
ইরানের পরমাণু নীতিতে কি কোনো পরিবর্তন আসছে?
পরমাণু নীতিতে পরিবর্তন আনার দাবি ইরানি জনগণের মধ্যে ক্রমেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছে বলে রেজাই জানান। তবে তা সত্ত্বেও ইরানের পরমাণু নীতি বিষয়ে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত এখনো সরকারিভাবে নেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
রেজাই বলেন, ‘ইরানের জনগণ দেখছে যে তাদের দেশের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও শত্রুরা এই দেশের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং ইরানে আক্রমণ করেছে। আর এ কারণেই এই দাবিগুলো উঠে আসছে।’
সুর নরম করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের পাঠানো চিঠির বিষয়ে রেজাই নিশ্চিত করে বলেছেন যে, ‘আমি চিঠিটি পড়েছি, তবে এখনো এর কোনো উত্তর দেইনি। চিঠির সুর পুরোপুরি বদলে গেছে এবং ট্রাম্পের আগের চিঠির তুলনায় এটি ভিন্ন। আর এটি ইরানি জাতির শক্তি ও বিজয়ের অন্যতম একটি লক্ষণ।’
তিনি চিঠিটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান এবং উল্লেখ করেন যে, মার্কিন পক্ষ এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি।
সূত্র : পার্সটুডে
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








