শত্রু, যেকোনো হুমকি, কড়া জবাব, দিতে হবে, : নির্দেশ,  মোজতবা খামেনি,
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ মোজতবা খামেনিকে (ডানে) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সাথে দেখা যাচ্ছে। প্রেসটিভি

শত্রু যদি কোনোভাবে বা যেকোনো পর্যায়ে একটুও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সাথে সাথে, জোরালো এবং যেকোনো সীমান্তে ঢুকে কড়া জবাব নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা ও সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ মোজতবা খামেনি।

Advertisement

ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি শনিবার (৩১ অক্টোবর) জানায়, সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সাথে এক বৈঠকে আয়াতুল্লাহ খামেনি পরিষ্কার করে বলেছেন, শত্রুকে শক্ত হাতে রুখে দেয়ার জন্য বিচক্ষণ যুদ্ধপ্রস্তুতিই হলো সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। ইরানের ওপর যদি শত্রুরা আবারো কোনো সামরিক হামলা বা সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে সেই লড়াই কখন এবং কীভাবে শেষ হবে, তা ঠিক করবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও  ইরানের সাধারণ জনগণ। সেই সাথে সামরিক গোয়েন্দা কাঠামোর ভিত মজবুত করা, নিজস্ব সমরকৌশল আরো পোক্ত করা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে আধুনিক প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি সেনাসদস্যদের আধ্যাত্মিক জোরালো ও জিহাদী মনোভাব বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার সুযোগ-সুবিধা ও সব ধরনের সহায়তা দেয়া এবং সে বিষয়ে নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টার আহ্বান জানান।

অন্য এক নির্দেশনায় খামেনি সামরিক লক্ষ্যমাত্রার তথ্যভাণ্ডার পুরোপুরি হালনাগাদ করতে বলেন, যাতে মার্কিন ও ইসরাইল শত্রুর সমস্ত দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদ সশস্ত্র বাহিনীর নিশানার মধ্যে থাকে। তিনি স্পষ্ট বলেন, ইরানবিরোধী যেকোনো আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও তাদের দেশীয় অনুচরদের রুখে দাঁড়ানোর প্রধান শক্তিই হলো সাধারণ মানুষের সমর্থন। দেশের পথে-প্রান্তরে গত আট মাস ধরে জনগণের এই টানা উপস্থিতি আসলে আট বছরের সেই পবিত্র প্রতিরক্ষারই নতুন রূপ। আর এই জনস্রোত সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বাসিজ বাহিনীর সাথে এক হয়ে ইরানের মাটির অখণ্ডতা আর ইসলামী ব্যবস্থাকে রক্ষা করে এসেছে এবং সামনেও রক্ষা করবে।

বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ময়দানে তাদের এই পারস্পরিক ঐক্যবদ্ধ অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পথ খুলে দিচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থা আগামী দিনে মুসলিম দেশগুলো ও তাদের সরকারের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বাড়াবে এবং এক নতুন ইসলামী সভ্যতার গোড়াপত্তন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি, সেনাবাহিনীর অধিনায়ক মেজর জেনারেল আমির হাতামি এবং ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসির প্রধান মেজর জেনারেল আহমদ ওয়াহিদি পারস্য উপসাগরের উপকূল, হরমুজ প্রণালী, ওমান সাগর এবং দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক হালচাল তুলে ধরে রিপোর্ট পেশ করেন। নজরদারি বিমান, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও মূল গোলাবারুদের উৎপাদন কীভাবে কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে, সে খবরও তারা সর্বাধিনায়ককে জানান। পুরো প্রস্তুতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে আয়াতুল্লাহ খামেনি সেনা, পুলিশ, বাসিজ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মী এবং তাদের পরিবারের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা পৌঁছে দেয়ার জন্য কমান্ডারদের অনুরোধ জানান।