রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ, গদি টিকিয়ে রাখতে,  ইরান যুদ্ধ, নেতানিয়াহু,
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সংগৃহীত

ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। নির্বাচনে পরাজয় এড়াতে নেতানিয়াহু সামরিক নেতৃত্বকে ইরানের সাথে সংঘাতে জড়ানোর জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

Advertisement

ডানপন্থী দল ইসরাইল বেইতেনুর নেতা লিবারম্যান গত ২৭ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারাকে লেখা এক চিঠিতে এ দাবি করেন। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিডলইস্ট মনিটর এ খবর জানায়। লিবারম্যানের অভিযোগ, গত এক মাস ধরে নেতানিয়াহু নিরাপত্তা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন পদক্ষেপ নিতে চাপ দিয়ে আসছিলেন, যা ইরানের সাথে সংঘাত বাধিয়ে দিতে পারত।

চিঠিতে লিবারম্যান লেখেন, ‘নির্বাচনের ঠিক আগে ইসরাইলকে যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা এবং নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে ইসরাইলি সেনাদের জীবন বিপন্ন করতে প্রস্তুত থাকা—দুটিই রাষ্ট্র, তার নিরাপত্তা ও সেনাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’

ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধান আইয়াল জামিরের মধ্যে মতবিরোধের কথা প্রকাশের পর এ অভিযোগ সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানের সাথে সংঘাত বাধিয়ে দিতে পারে—এমন একটি সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছিল। মঙ্গলবারের নির্বাচনের দুই দিন আগে ইরানের সাথে আকস্মিক সংঘাত শুরু হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় সেনাপ্রধান নেতানিয়াহুর নির্দেশ মানতে রাজি হননি বলে খবর প্রকাশিত হয়।

বিরোধী দলের অন্য নেতারাও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জননিরাপত্তার চেয়ে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট সতর্ক করে বলেন, সেনাবাহিনীকে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত করা উচিত নয়। বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ অভিযোগ করেন, ইরানের সাথে উত্তেজনা বাড়িয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল প্রধানমন্ত্রীর।

তবে জামিরের সাথে বিরোধের খবর অস্বীকার করেছেন নেতানিয়াহু। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজও ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা ছিল না। সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইসরাইলের বিরোধীরা এখন অভিযোগ করছেন, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহু ইরানের সাথে যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে—তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ওয়াশিংটনকে জড়াতে নেতানিয়াহু ভূমিকা রেখেছিলেন। এ অভিযোগ তোলায় সাবেক মার্কিন সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্টসহ সমালোচকদের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগও উঠেছে।

ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের পরিচালক পদ থেকে  ইস্তফা দিয়েছিলেন কেন্ট। তাঁর অভিযোগ ছিল, ইসরাইলের চাপ ও তদবিরের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আবারো ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়েছে। তাঁর পদত্যাগের পর ওয়াশিংটনে ইসরাইলের প্রভাব নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্ক শুরু হয়।

এদিকে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়াতে নেতানিয়াহুর প্রচেষ্টার বিবরণ উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে এক উপস্থাপনায় নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি পঙ্গু করে দেয়া যাবে। পাশাপাশি  দেশটির সরকার উৎখাতের পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব হবে। ইসরাইলের মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিক নিয়ে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের সংশয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে রাজি করানো হয়েছিল।