
লোকসানে থাকা সরকারি চিনিকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি আখের উপজাত ও অন্যান্য পণ্য ব্যবহার করে বায়োপ্রোডাক্ট তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একইসাথে মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কোন পদে কতটি শূন্য পদ রয়েছে এবং কোন কোন পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, তারও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে কমিটি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো: আবুল কালাম এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এমপি, আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, কাজী রফিকুল ইসলাম এমপি, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এমপি, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এমপি, মনজুর এলাহী এমপি, মো: এনামুল হক এমপি এবং মাসুদ সাঈদী এমপি অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর কমিটির প্রথম বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের হার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমস্যাগুলো কমিটিকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর জেলা পর্যায়ের কার্যালয় সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ, আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর আধুনিকায়ন এবং শিল্প খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নসংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর আওতাধীন সার কারখানাগুলোর উৎপাদন পরিস্থিতি। এসব কারখানার উৎপাদন, উৎপাদন সক্ষমতা, নতুন গৃহীত প্রকল্প, বন্ধ সার কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ, গ্যাস সরবরাহ, কারখানা পরিচালনায় বিদ্যমান সমস্যা এবং সার উৎপাদনের ব্যয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
সার কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে কমিটি। একইসাথে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো ও সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপরও জোর দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, বরাদ্দ করা অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দফতর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে কমিটি।
এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতর ও সংস্থাগুলোর প্রতিটি কলকারখানার বার্ষিক আয়-ব্যয়, জনবলের শূন্য পদ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চলমান উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
কমিটি শিল্প খাতে উৎপাদন বাড়ানো, সরকারি বিনিয়োগের সর্বোত্তম ব্যবহার, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চলমান প্রকল্পগুলোর কাঙ্ক্ষিত সুফল দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে। পাশাপাশি পূর্ববর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা এবং অসমাপ্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
লোকসানে থাকা চিনি কলগুলোর বিষয়ে কমিটি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য থেকে কিভাবে বায়োপ্রোডাক্ট তৈরি করে এসব প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করা যায়, সে বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে চিনি কলগুলোর বিদ্যমান সম্পদ ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিকল্প আয় ও পণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।
একইসাথে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জনবল পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে কমিটি। কোন প্রতিষ্ঠানের কোন পদে কতটি শূন্য পদ রয়েছে এবং এর মধ্যে কতটি পদে ইতোমধ্যে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে—এসব তথ্যসহ একটি প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








