৭ মিনিটে ৩ গোল, অবিশ্বাস্য জয় রিয়ালের
রোমার বিপক্ষে ৪-৩ গোলে জয় রিয়াল মাদ্রিদের। সংগৃহীত

ম্যাচের ৮৩ মিনিট পর্যন্ত সবকিছুই ছিল রোমার পক্ষে, ৩-১ গোলে এগিয়ে তখন স্বাগতিকেরা। গ্যালারিতে উল্লাস। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের চোখেমুখে তখন হতাশা, লজ্জার হারের শঙ্কা। তবে এরপরই বদলে যায় গল্প।

Advertisement

মাত্র সাত মিনিটে একে একে ৩ গোল করে রোমার স্বপ্ন ভেঙে দিল রিয়াল মাদ্রিদ, লিখল অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। তাতে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষে রোমাকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে হোসে মরিনহোর দল।

বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটিতে শুরু থেকেই ছিল রোমার দাপট। পঞ্চম মিনিটেই পাওলো দিবালার ক্রস থেকে বিপদ তৈরি হয়। পরে মারিও হারমোসোর শট ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। ১৩ মিনিটে দিবালার আরো একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন।

তবে ২০ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে রিয়ালের জাল কাঁপান মার্টেন ডি রুন। পিছিয়ে পরলেও অবশ্য দ্রুত সমতায় ফেরে রিয়াল। পাঁচ মিনিটের মাঝেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে বল জালে জড়ান।

দ্বিতীয়ার্ধে ফের রোমা আঘাত করে। ৫১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যাকহিল থেকে বল পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। দ্রুত আক্রমণে উঠে ডনিয়েল মালেনের শট এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে কোর্তোয়ার ওপর দিয়ে জালে জড়ায়। 

কিছুক্ষণ পরই ব্যবধান আরো বাড়ে। ৫৮ মিনিটে মাতিয়াস সুলের রক্ষণচেরা পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মালেন। রিয়াল তখন ৩-১ গোলে পিছিয়ে। মনে হচ্ছিল ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে তারা।

হচ্ছিলও তাই। সময় গড়ানোর সাথে সাথে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়তে থাকে রোমার। রিয়ালের সামনে তখন হার এড়ানোর কঠিন লড়াই। এমতাবস্থায় জোড়া পরিবর্তন এনে আক্রমণে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন মরিনিয়ো। 

ভিনিসিয়ুস ও ডামফ্রিসকে তুলে নামানো হয় এন্দ্রিক ও আর্দা গুলেরকে। সেই পরিবর্তনই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৮৩ মিনিটে গুলেরের কর্নার থেকে হেড করেন এন্দ্রিক। রোমার গোলরক্ষক পিয়েরলুইজি গোল্লিনি সেই হেড ঠেকিয়ে দিলেও বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি।

ফিরতি বল পেয়ে খুব কাছ থেকে জালে পাঠান বদলি নেমে কয়েক মিনিটই কাটানো কার্লোস এস্পি। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠলেও ভিএআরের সহায়তায় গোলের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। রিয়াল তখন ৩-২ গোলে পিছিয়ে।

আর এর দুই মিনিট পরই ফেরে সমতা! আবারো গুলের। এবার তার কর্নার থেকে হেড করেন এন্দ্রিক। বল জালে জড়াতেই ৩-৩, মাত্র চার মিনিটে ২ গোল করে ম্যাচে ফিরে রিয়াল। সমর্থকদের মনে তখন টানটান উত্তেজনা।

তখন রোমার জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে, কিন্তু রিয়ালের ক্ষুধা তখনো শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে আবারো সেট পিস থেকে সুযোগ তৈরি হয়। ডান দিক থেকে গুলের নেয়া কর্নার জটলার মাঝে এসে পড়ে। 

সেখানে বলের নাগাল পেয়ে এক টোকায় জালে পাঠিয়ে দেন আন্তোনিও রুডিগার। ৯০ মিনিটে রিয়াল এগিয়ে যায় ৪-৩ গোলে।
৩-১ থেকে ৪-৩! মাত্র সাত মিনিটে তিন গোল। অবিশ্বাস্য এমন প্রত্যাবর্তনে হতভম্ব যেন স্বাগতিক গ্যালারি। 

যে রোমা জয়ের উৎসবে মেতেছিল এতটা সময়, ৯০ মিনিটে সেই গ্যালারিতেই নেমে এলো নীরবতা। আর রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকেরা যেন সেই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে মানুষ। 

এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই ম্যাচে দুই জয় পেল রিয়াল। ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে অষ্টম স্থানে আছে ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে দুই ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে ২৫ নম্বরে রোমা।