ফ্যান্স, বিক্ষোভ
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত প্যারিসে বিক্ষোভ। নয়া দিগন্ত

ফ্রান্সে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিরাপত্তা, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা ও আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডানপন্থী রিপাবলিকান পার্টির (এল আর) নেতারা আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সঙ্ঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সাথে তারা বামপন্থী দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের (এলএফই) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

Advertisement

আন্দোলন শুরুর পর থেকে এল আর-এর নেতাদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দাবির পাশাপাশি আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ও সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও এল আর-এর অন্যতম শীর্ষ নেতা ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ের বেলামি আন্দোলনকে ‘বিশৃঙ্খলার পরীক্ষাগার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই দলের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য সেলিন ইমার ৫ অক্টোবর বিএফএম টিভিতে বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে শুধু শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার আন্দোলন হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে উঠেছে।’

ডানপন্থী নেতারা মনে করছেন, আন্দোলনে লা ফ্রঁস ইনসুমিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। দলটির নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ ও এলএফআইয়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ও এল আর নেত্রী ভ্যালেরি পেক্রেস আন্দোলনের বিভিন্ন অবরোধস্থলে এলএফআইয়ের এমপিদের দ্রুত উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তার মতে, আন্দোলনের কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক।

সেন্ট-দেনি শহরে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও রাজনৈতিক বিতর্কে গুরুত্ব পেয়েছে। পেক্রেস বলেন, ‘সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলে তা মেরামতের ব্যয় নিয়ে দায়িত্ব নির্ধারণ করা প্রয়োজন।’ 

সেন্ট-দেনির এলএফআই-সমর্থিত পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষয়ক্ষতির ব্যয় পাঠানোর কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তার যুক্তি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের অর্থ শেষ পর্যন্ত করদাতাদের অর্থ থেকেই আসে।

সেন্ট-দেনির পল-এলুয়ার উচ্চবিদ্যালয়ের সংস্কার প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেছেন পেক্রেস। তার হিসেবে, বিদ্যালয়টির সংস্কারে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় হচ্ছে। ফলে সরকারি অর্থে পরিচালিত এ ধরনের অবকাঠামো রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

তবে আন্দোলন নিয়ে ডানপন্থি শিবিরে শুধু নিরাপত্তার বিষয়টি নয়, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতা এদুয়ার ফিলিপ আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করলেও পরে তার অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি এখন বলেছেন, আন্দোলনকারীদের কথা ‘শুনতে এবং জবাব দিতে’ চান।

ফিলিপের এ বক্তব্য আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন একটি দিক সামনে এনেছে। একদিকে বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার প্রশ্ন রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে থাকা উদ্বেগ ও দাবিগুলো রাজনৈতিকভাবে বিবেচনার বিষয়ও রয়েছে।

ফলে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন এখন শুধু শিক্ষা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবাদের অধিকার, জননিরাপত্তা, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সব মিলিয়ে এটি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।