
অবশেষে পরমাণু বিদ্যুতের যুগে পা রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ২০ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে যাচ্ছে রূপপুরের পরমাণু বিদ্যুৎ। জাতীয় অগ্রগতির ধারায় এটি হবে সর্বশেষ সংযোজন; উন্নয়নের সোপানে আরেকটি ধাপ পেরনো।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০ নভেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হবে। এ কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক ধাপে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে, যা টানা চার দিন পরীক্ষামূলকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। উৎপাদন শুরুর আগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপের কাজ শুরু হবে।
কেন্দ্রের দু’টি ইউনিট আছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট। ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রকল্পে রাশিয়ার দেয়া ঋণের অর্থ ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এতে প্রকৃত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে। প্রতি বছর এটি পরিচালনায় ব্যয় হবে প্রায় ২০ কোটি ডলার। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১০ টাকার বেশি। যেখানে একই ধরনের কেন্দ্র থেকে ভারত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে চার রুপিতে।
চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালে। কিন্তু কোভিড মহামারী, কূটনৈতিক টানাপড়েন, কারিগরি জটিলতাসহ নানা কারণে প্রকল্প বিলম্বিত হয়।
প্রকল্পের ব্যয়ও ভারত বা অন্য দেশের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। কার্যত জনগণের কাঁধে একটি শ্বেতহস্তী চেপে বসছে বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। আর এর সব গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের বসানোর অভিযোগ আছে। বাংলাদেশী কারিগরি বিশেষজ্ঞরা কত দিনে পুরো দায়িত্ব বুঝে নিতে পারবেন, তা স্পষ্ট নয়।
প্রকল্পে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ আছে সরাসরি পতিত সরকারের প্রধান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্বে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও অন্যরা দুর্নীতির যে নজির স্থাপন করেছেন, তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। ভবনের উপরের তলায় একটি বালিশ পৌঁছে দিতে তারা ব্যয় করেছেন সাত হাজার টাকা। জনগণের অর্থ লোপাটের এই দৃষ্টান্ত গিনেস বুকে ঠাঁই পাওয়ার মতো। তবু দেশবাসীর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্নের প্রকল্প শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে, এটিই সান্ত্বনা।
এদেশে অগ্রগতি কখনো মসৃণ গতিতে এগোয় না। সামাজিক, রাজনৈতিক এমনকি প্রাকৃতিক কারণেও গতি মন্থর হয়ে পড়ে। কখনো স্থায়ীভাবে আটকে যায়। যারা উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা এগিয়ে নেবেন— সেই রাজনীতিকদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, সঙ্ঘাত, মানসিক সঙ্কীর্ণতাও প্রায়শ উন্নয়নের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দুর্নীতির প্রসঙ্গ তো বলাই বাহুল্য। এসব কারণেই পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে আমাদের অপেক্ষা করতে হলো দীর্ঘ ৬৫ বছর। ১৯৬১ সালে আইয়ুব খানের সময় যে প্রকল্পের পরিকল্পনা নেয়া হয়, সেটির বাস্তবায়ন হলো ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তে।
তার পরও আমরা জাতির দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্নপূরণের ঘটনায় উল্লসিত, স্বাগত জানাই। কারণ, সব ভালো, যার শেষ ভালো। অভিনন্দন প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








