মতামত
সম্পাদকীয় লোগো। নয়া দিগন্ত

ইরানে হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নানামুখী যুদ্ধের বিস্তার ঘটেছে। এর মধ্যে প্রধান সঙ্কট হিসেবে দেখা দিয়েছে সৌদি আরব ও ইয়েমেনি হুথিদের দ্বন্দ্ব। পরিস্থিতির এতটা অবনতি হয়েছে যে, সৌদিতে উপর্যুপরি হামলা চালাচ্ছে হুথিরা। হামলার নিশানা সামরিক স্থাপনা হলেও বেসামরিক স্থাপনাও আক্রান্ত হচ্ছে। সর্বশেষ সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ শুধু বিবদমান দুই পক্ষ নয়, বৃহত্তর মুলিম উম্মাহর জন্য বড় বিপদ ডেকে আনছে। আলোচনায় শান্তিপূর্ণ সমাধান এই সঙ্কট থেকে বের হওয়ার উপায় হলেও তাতে যেন কোনো পক্ষের নজর নেই।
এ যুদ্ধ আমাদের জন্য দুই কারণে উদ্বেগের। মুসলমানদের পবিত্র মক্কা নগরী ও নবী মুহাম্মদ সা:-এর স্মৃতিবিজড়িত মদিনা সৌদি আরবে অবস্থিত। এই দু’টির সাথে এ দেশের মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি জড়িত। যুদ্ধের ভয়াবহ বিস্তারে ধর্মীয় এই দুই অবস্থানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। যদিও হুথিরা বলেছে, কোনোভাবে মক্কা-মদিনায় আক্রমণ হবে না।
দ্বিতীয় কারণটি সৌদিতে সর্বাধিক বাংলাদেশী প্রবাসীর অবস্থান। আমাদের বেশি প্রবাসী আয় আসে এখান থেকে। তাই সৌদি আরবে কোনো ধরনের হামলা কিংবা অস্থিরতা সেখানকার বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য নিরাপত্তার প্রশ্ন। গত শনিবার কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১৩ জনের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশী। আহত ৩০০ জনের মধ্যে ২৪ বাংলাদেশী। তাদের চারজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
হামলার বিস্তার ঘটলে সেখানে বাংলাদেশী কমিউনিটি আরো বেশি আক্রান্ত হবে। হতাহতের পাশাপাশি তাদের চাকরির ওপর আঘাত আসতে পারে। যুদ্ধের কারণে যদি সৌদি অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসে, তা আমাদের প্রবাসী আয়েও প্রভাব ফেলবে। দেশটিতে ২০০৪ সাল থেকে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে হালনাগাদ ৫৪ লাখ বাংলাদেশী গেছেন। এখনো সেখানে ৩৫ লাখ বাংলাদেশী আছেন। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সৌদি থেকে ৫২৮ কোটি ডলার এসেছে, যা মোট রেমিট্যান্সের ১৬ শতাংশ।
হুথি-সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ মূলত ইরানে হামলার সূত্রে। পাশের বাবেল মানদেব প্রণালী ও কিছু সামরিক কৌশলগত অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভরপক্ষের দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখন প্রতিদিন যেভাবে যুদ্ধের বিস্তার ঘটছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটানোর সমূহ আশঙ্কা তৈরি করেছে। ভয়াবহ বিপদের কারণ— এর সমাধান সামরিক পথে খোঁজায়। অথচ ২০১৫ সালে এ যুদ্ধ সূচনার পর এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়েছে। তবুও যুদ্ধ সমাধান আনেনি। এখন হুথি ও তাদের মিত্র ইরানের অবস্থা আরো সংহত। এ অবস্থায় যুদ্ধের মাধ্যমে হুথিদের নিঃশেষ করার চিন্তা অবাস্তব। প্রয়োজন যুদ্ধবিরতি, সন্ধি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটা। আমাদের চাওয়া, বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হোক। একে অপরের ওপর হামলা থেকে বিরত হোক।  
যুদ্ধের ঘনঘটায় সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশীদের নিয়ে সতর্কতার প্রয়োজন আছে। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে তারা যেন দূতাবাসের সহযোগিতা পান তার প্রস্তুতি রাখতে হবে।

Advertisement