সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

চব্বিশের বিপ্লবের জন-অভিপ্রায় ছিল ফ্যাসিবাদের বিলোপ, মানবাধিকার রক্ষা এবং বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা; কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় এটি স্পষ্ট, পুরনো ব্যবস্থার জঞ্জাল এখনো নির্মূল হয়নি। এখনো প্রশাসনের গভীরে লুকিয়ে আছে অপশক্তি। তারা অপচেষ্টায় লিপ্ত দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টে।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে গুরুতর অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে অব্যাহতি পাওয়া নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর। তিনি যখন কারাগারে ছিলেন, তখন তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালি দেয়া হতো। গালি দিতেন কারারক্ষী ও আওয়ামী বন্দীরা। কারাগারে তাকে নির্যাতনও করা হয়েছে। অন্য দিকে আওয়ামী সমর্থক বন্দীদের রাখা হয়েছে ‘রাজার হালে’। সংবাদ সম্মেলনে গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর অভিযোগ করেন, এসব নির্যাতনের কথা প্রকাশ করলে তার পরিবারের সদস্যদের গুম করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।
গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর কারাবন্দী হন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে। তার বিরুদ্ধে গত ২ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন বগুড়া সদর থানা বিএনপির সভাপতি। এই মামলায় তানভীরকে গ্রেফতার করে ৫ আগস্ট বগুড়া কারাগারে নেয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সেলটি ছিল আলোবাতাসহীন। কারারক্ষীরা ছিলেন আওয়ামীপন্থী। তারা তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করতেন। আশপাশের কয়েদিরাও ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী নেতাকর্মী। তারাও গালিগালাজ করতেন। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকীতে ৫ আগস্ট কারাগারে সবাইকে ভালো খাবার দেয়া হয়; কিন্তু তানভীরকে দেয়া হয় বাসি খাবার। তার অভিযোগ, কারাবন্দী অবস্থায় তাকে নানাভাবে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হয়। চিকিৎসার নামেও করা হয় নির্যাতন। আরো একটা ভয়াবহ অভিযোগ করেছেন তিনি, ‘বন্দী আওয়ামী নেতাদের রাতে গাড়িতে করে কারাগারের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোরে ফিরিয়ে আনা হয়।’ এমন দৃশ্য দেখে ফেলাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই ভয়াবহ অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে চরম আঘাত। কারাগারকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করার শামিল। কারাগার থেকে বন্দী কাউকে যদি বাইরে এনে কোনো নাশকতা করানো হয়; এর কোনো রেকর্ড থাকবে না। জড়িতদেরও শনাক্ত করা যাবে না।
আমরা মনে করি, অভিযোগটি আমলে নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত করা উচিত। খতিয়ে দেখা উচিত, দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো ষড়যন্ত্র কারাগার থেকে হচ্ছে কি না? ইতঃপূর্বে আমরা দেখেছি, ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড। তাকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাই কারা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা কেউ যদি ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থে লিপ্ত হন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।  
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও কার্যক্রম নিষিদ্ধ অপশক্তির অপতৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের সহিংসতা, নাশকতার বিষয়ে বিরোধী দলকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 
আমরাও মনে করি, অপশক্তির বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকেও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।