রাজধানীর ২৫ গ্রামের দুর্ভোগ 
রাজধানীর ২৫ গ্রামের দুর্ভোগ  নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

জায়গাটা মহানগরীর অন্তর্ভুক্ত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে। বালু নদীতীরের ২৫টি গ্রামের লাখো মানুষ যাতায়াতের জন্য নির্ভর করেন বাঁশের সাঁকোর ওপর। জায়গাটি ছিল নাসিরনগর ইউনিয়নের অংশ। ২০১৭ সালে অর্থাৎ প্রায় ১০ বছর আগে সেটি সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাসিন্দাদের ঘাড়ে চাপে কয়েকগুণ বেশি হোল্ডিং ট্যাক্সসহ নানা ব্যয়। কিন্তু বাড়েনি কোনো মৌলিক নাগরিক সুবিধা। এমনকি যাতায়াতের মতো প্রাথমিক চাহিদা পূরণের দিকেও নজর দেয়নি সিটি করপোরেশন।

নগরপাড়া, খামারপাড়া, কামশাইর, গৌড়নগর, দাসেরকান্দিসহ ২৫টি গ্রামের মানুষের জীবনের গতি যেন অন্ধকারে পথ হারানো পথিকের মতো থমকে দাঁড়িয়ে আছে। এখনো বালু নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এই এলাকার বাসিন্দাদের। একটি দু’টি নয়, ১৭টি সাঁকো। প্রতিটি সাঁকোতে আবার বসেছে ইজারাদার। সাঁকো পারাপারে জনপ্রতি পাঁচ টাকা এবং মালামালসহ ১০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। প্রতিটি সাঁকো থেকে দৈনিক তিন থেকে সাত হাজার এবং মাসে লাখ টাকার বেশি টোল আদায় করছেন ইজারাদাররা; কিন্তু সাঁকোগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নেই।  যেনতেনভাবে বানানো ১৫০ থেকে ৩০০ ফুট দীর্ঘ এবং মাত্র আড়াই-তিন ফুট প্রস্থের এসব সাঁকো শুধু ঝুঁকিপূর্ণ নয়, প্রতিটি যেন একেকটি মৃত্যুকূপ। কখনো সাঁকো থেকে পড়ে, কখনো সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে অনেকের মৃত্যু ঘটেছে। গত পাঁচ বছরে শুধু সাঁকো থেকে পড়েই অন্তত ২১ জন মারা গেছেন বলে একটি দৈনিকের খবরে উল্লেখ করা হয়। আহত ও পঙ্গু হন আরো অনেকে। কেবল চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ঘটেছে অন্তত ৯টি বড় দুর্ঘটনা। এসব বিষয়ে নানা সময়ে মিডিয়ায় খবর প্রকাশ পেয়েছে; কিন্তু টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কারো। 

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর খোদ রাজধানীর লাখ লাখ মানুষ এমন প্রাগৈতিহাসিককালের জীবনযাপন করছেন, এটা অবিশ্বাস্য। কালের আবর্তনে অনেক রাজা যায়, রাজা আসে; প্রশাসন পাল্টায়, ইলেকশনে এলাকাবাসীকে আশ্বাসের অমিয় বাণী শোনান এমপি প্রার্থীরা। নির্বাচিত হওয়ার পর সে কথা বেমালুম ভুলেও যান। এভাবেই চলছে। 

সবশেষ নির্বাচনে এখানে অর্থাৎ ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনে নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব। ভালো মানুষ হিসেবে জনগণ তাকে নির্বাচিতও করেছেন; কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো ভূমিকা এলাকাবাসী দেখেননি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকও বিএনপিদলীয়; কিন্তু বাস্তবতা এটিই যে, আলোচিত ২৫টি গ্রামের মানুষ ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না। কবে পাবেন তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

খোদ রাজধানীর এই অন্ধকার দিকটিই সম্ভবত পুরো দেশের চিত্রটি  স্পষ্ট করে দেয়। আমরা আশা করতে চাই, স্থানীয় এমপি, সিটি প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। জনগণের দুর্ভোগ কমানোই তাদের দায়িত্ব, দুর্ভোগ বাড়ানো নয়।