বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল, সিলেট টেস্ট, বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ, হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ
অনুশীলনের মাঠে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা। সংগৃহীত

মিরপুরে ব্যাটিং ব্যর্থতা, স্পিনারদের নিষ্প্রভতা আর ফিল্ডিংয়ে একের পর এক ক্যাচ মিস—সব মিলিয়ে প্রথম টেস্টে কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এবার সামনে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর চ্যালেঞ্জ।

Advertisement

কিন্তু সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে নামার আগে নতুন করে ধাক্কা খেয়েছে দল, কনকাশনের কারণে ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। সব মিলিয়ে মাঠে নামার আগে কঠিন পরীক্ষার মুখে স্বাগতিকেরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে ম্যাচ। যেখানে টাইগারদের লক্ষ্য একটাই, হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।

তবে প্রথম টেস্টের ব্যাটিং বিপর্যয়ের ক্ষত এখনো তাজা। দুর্বলতা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে ক্যারিবীয় স্পিনারদের বিপক্ষে। মিরপুরে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৬ উইকেট নিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা।

যা নিয়ে চিন্তায় কোচ ফিল সিমন্স। স্পিন সামলাতে ব্যাটারদের আরো পরিণত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। কোচের ভাষায়, ‘আমরা যতটা ভালো ব্যাট করতে পারতাম, তা করতে পারিনি।’

তিনি বলেন ‘ওরা ভালো বল করেছে, টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ এটাই। ওদের স্পিনের বিপক্ষে কিভাবে রান তুলতে হবে আর কখন ডিফেন্ড করতে হবে, সেই জায়গায় ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে হবে।’

শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিং নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে বাংলাদেশের। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভাবাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। মিরপুর টেস্টে ১৩০ রান খরচায় দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ২ উইকেট পেয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

শেষ চার টেস্টে তার শিকার মোটে ৫ উইকেট। সিলেটের উইকেটে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন, তাই তাইজুলকে বাইরে রেখে তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামার ভাবনাও রয়েছে বাংলাদেশের।

তাইজুলের ফর্ম নিয়ে উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন সিমন্সও। তবে স্পিনারদের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না তিনি। কোচ বলেন, ‘এটা সত্যিই উদ্বেগের, কারণ তাইজুল এই দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। তবে স্পিন আমাদের শক্তির বড় জায়গা। এই সিলেটে আগের ম্যাচেই দুই স্পিনার আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছিল। স্পিনারদের ওপর এখনো আমাদের আস্থা আছে।’

মিরপুরে বাংলাদেশের হারের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতারও। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একের পর এক ক্যাচ হাতছাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল স্বাগতিকেরা।

সিলেটে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না কোচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ হাতছাড়া করার মাশুল কতটা বড় হতে পারে, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

এদিকে এই ম্যাচে দলের অন্যতম ভরসা মুমিনুল হককে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে মাথায় আঘাত পাওয়ায় কনকাশন নিয়মে সিলেট টেস্টে খেলতে পারবেন না অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। তার বদলি হিসেবে দলে ডাক পেয়েছেন অমিত হাসান।

তবে প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের কথায়, একাদশে তার জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দুই বছরের বেশি সময় পর তিনে ব্যাট করেছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

সিলেটেও তাকে একই পজিশনে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন কোচ। চোট কাটিয়ে এই ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের ফেরা নিশ্চিত হওয়া মিডল অর্ডারে শান্তর জায়গা নিতে পারেন তাওহীদ হৃদয়।

সব মিলিয়ে সিলেট টেস্ট বাংলাদেশের জন্য কেবল সিরিজে সমতা ফেরানোর লড়াই নয়, মিরপুরের ব্যর্থতা কাটিয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও সুযোগ। যেই প্রমাণ দিতে গেলে।আমূল পরিবর্তন আনতে হবে সব বিভাগে।

আবার এদিকে সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে সিলেটে জিততেই হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ জেতায় এই ম্যাচে ড্র করলেও সিরিজ জিতে নেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শুধু সিরিজ বাঁচানো নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। সিলেটে জয় তুলে ফাইনালের দৌড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবেন শান্তরা।