
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ ড্রয়ের পর টেস্টে ফিরছে বাংলাদেশ। তবে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই শান্তদের সামনে কঠিন পরীক্ষা। আবুধাবির প্রায় ৪০ ডিগ্রি গরম, নতুন কন্ডিশন আর আফগানিস্তানের স্পিন—সব মিলিয়ে একমাত্র টেস্টে চ্যালেঞ্জের কমতি নেই।
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ১৬১টি টেস্ট খেলার পর এবারই প্রথম নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে অবশ্য বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড সমান-সমান। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে নিজেদের প্রথম টেস্টেই আফগানদের কাছে ২২৪ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে চার বছর পর মিরপুরে সেই হারের জবাব দেয় ৫৪৬ রানে জিতে। যা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেরই সবচেয়ে বড় জয়।
তবে এবার পরিস্থিতি আলাদা। ম্যাচটির আয়োজক আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড হলেও নিজ দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন করতে না পারায় আবুধাবিকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছে তারা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত আফগানদের কাছে তাই একেবারে অপরিচিত নয়। এখন পর্যন্ত ১৩ টেস্ট খেলা আফগানিস্তান এর তিনটিই খেলেছে আমিরাতে। বিপরীতে এই দেশে বাংলাদেশের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই।
তার সাথে যোগ হয়েছে আবুধাবির তীব্র গরম। তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা অনুশীলনে বারবার গরমের কথা বললেও অধিনায়ক শান্ত এটিকে অজুহাত হিসেবে দেখতে নারাজ। তার মতে, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়াই দলের কাজ।
কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়ার সুযোগও অবশ্য সবার সমান ছিল না। এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়া বাংলাদেশের পাঁচ ক্রিকেটার জাপান থেকে আবুধাবিতে এসে পেয়েছেন মাত্র দুই দিনের অনুশীলন। জাপানের তুলনামূলক ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে সরাসরি প্রায় ৪০ ডিগ্রির গরমে এসে পাঁচ দিনের টেস্ট খেলা তাই বাড়তি চ্যালেঞ্জই।
এর বাহিরে আছে আফগানিস্তানের স্পিন রহস্য। আফগানিস্তান একাধিক স্পিনার নিয়ে মাঠে নামতে পারে। এছাড়া আবুধাবির উইকেট কিছুটা মন্থর ও স্পিন সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশও মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের পাশাপাশি নাঈম হাসানকে নিয়ে একাদশ সাজাতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির জায়গা সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স। নিজেদের সবশেষ সাত টেস্টের পাঁচটিতেই জিতেছে তারা। এর মাঝে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ডারউইন টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ও রয়েছে। অন্যদিকে ২০২৩ সালের পর সাত টেস্ট খেলে আফগানিস্তান জিতেছে মাত্র একটি, ড্র করেছে একটি।
তবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তাও আছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করার পর আর বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম। ওই সিরিজের তিন ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন লিটন কুমার দাস। মুমিনুল হকের ব্যাটেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় রান নেই।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্ট বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। ফলে ম্যাচটির ফল সরাসরি চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় প্রভাব ফেলবে না। তবে সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। সেই কঠিন লড়াইয়ের আগে নিজেদের প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস যাচাইয়ের বড় সুযোগ এই টেস্ট।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ছয় ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্টের হার ৫৫.৫৬ শতাংশ, অবস্থান চতুর্থ। বাকি ছয় টেস্টের চারটি জিততে পারলে এবং অন্তত একটি ড্র করতে পারলে ফাইনালের দৌড়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে শান্তর দল।
সেই অভিযানের আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় তাই শুধু আরেকটি টেস্ট জয় নয়, সামনে থাকা কঠিন পথের জন্য আত্মবিশ্বাসও বাড়াতে পারে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








