
জয়ের পথটা প্রায় তৈরি করে ফেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। ১৬ ওভার শেষে ১ উইকেটে যোগ করেছিল ১২৯ রান—হাতে তখনো ৯ উইকেট। ২৯৮ রানের লক্ষ্য তখন মনে হচ্ছিল সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু সেখান থেকেই হঠাৎ বদলে গেল ম্যাচের চিত্র।
পরের ২৫.২ ওভারে মাত্র ১০১ রান যোগ করতেই শেষ ৯ উইকেট হারায় অজিরা। শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানে অলআউট হয়ে ৬৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডারবানের কিংসমিডে ২৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড মাত্র ৯.২ ওভারে ৯০ রান যোগ করেন। মার্শ ছিলেন আরো আগ্রাসী—মাত্র ৩৬ বলে খেলেব ৬০ রানের ইনিংস।
তার বিদায়ের পরও অস্ট্রেলিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৬.১ ওভারে ট্রাভিস হেড ৩৬ রানে ফিরলে স্কোর ছিল ১২৯। অর্থাৎ তখনো জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৬৯ রান, হাতে ছিল ৮ উইকেট।
কিন্তু এরপরই দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কেশব মহারাজকে আক্রমণে এনে বড় ধাক্কা দেয় স্বাগতিকরা। মিচেল মার্শকে ফিরিয়ে শুরু করা সেই স্পিন-চাপে একে একে ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং।
জশ ইংলিসকে ফেরান বিজর্ন ফর্টুইন। এরপর মহারাজের ঘূর্ণিতে ফেরেন ক্যামেরন গ্রিন ও জ্যাক এডওয়ার্ডস। যদিও কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন কুপার কনোলি ও ম্যাট রেনশ। কনোলি ৩৮ রান ও রেনশ ৪৪ রান করেন।
কিন্তু ৩৬.২ ওভারে রেনশর বিদায়টাই হয়ে ওঠে ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। জেরাল্ড কোয়েটজির বলে বাউন্ডারির দিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তিনি মার্কো জানসেনের অসাধারণ এক হাতে নেয়া ক্যাচে পরিণত হন। তখন অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ২১৫/৭।
জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরে ৮৩ রান। কিন্তু এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ ১২৯/১ থেকে ২৩০ অলআউট—মাত্র ১০১ রানে শেষ ৯ উইকেট হারিয়েছে তারা।
মহারাজ ৯.২ ওভারে ২০ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। তার স্পেলে ছিল দুইটি মেডেনও। ফর্টুইন ৩৪ রানে দুইটি ও করবিন বোশ ৬৭ রানে ২ উইকেট নেন।
অবশ্য ম্যাচের শুরুতে গল্পটা ছিল উল্টো। টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই স্বাগতিকদের চাপে ফেলে দেয় তাদের বোলাররা। টনি ডি জর্জি ৭ বলে কোনো রান না করে ফেরেন। কুইন্টন ডি কক করেন ১৮ বলে ১৪।
২৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর টেম্বা বাভুমা ও ম্যাথিউ ব্রিটজকে মিলে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। বাভুমা ৪৮ বলে ৩০ রান করে ফেরেন। এরপর রায়ান রিকেলটন ২৭ ও ডেভিড মিলার মাত্র ৯ রান করে আউট হলে ১৬৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে তারা।
সেখানেই দেখা যায় ম্যাচের প্রথম বড় মোড়। ক্রিজে থাকা ব্রিটজকের সাথে যোগ দেন মার্কো জানসেন। ষষ্ঠ উইকেটে মাত্র ১৪ ওভারে ১০৭ রানের জুটি গড়ে প্রোটিয়াদের ইনিংস টানেন। জানসেব ৫৯ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেন।
অন্য প্রান্তে ব্রিটজকে ধরে রাখেন ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ। শেষ পর্যন্ত ১০৬ বলে ১১২ রান করেন তিনি। এটি ওয়ানডেতে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ফলে ৩০০ ছুঁই ছুঁই লক্ষ্য পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ পাঁচ ওভারে তারা যোগ করে ৫৪ রান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস ৩টি ও অ্যাডাম জাম্পা ২টি উইকেট নেন।








