টি-২০ নেতৃত্ব ছাড়লেন জ্যোতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
এশিয়ান গেমসের পর ২০ ওভারের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব ছাড়তে যাচ্ছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। ব্যাটিং ও উইকেট কিপিংয়ে আরো বেশি মনোযোগ দিতে চান তিনি। তবে ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে দলকে ঠিকই নেতৃত্ব দিয়ে যাবেন। টি-২০ নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই বিসিবিকে জানিয়েছেন জ্যোতি। গতকাল জাপান থেকে চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও নিগারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। ডেভিড হেম্পকে নতুন হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে বিসিবি।
২০২২ সাল থেকে টি-২০তে অধিনায়কত্ব করছিলেন জ্যোতি। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ১৩২ টি-২০ খেলেছেন, এর ৮০ ম্যাচেই অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে ৮০ ম্যাচে ১৩ ফিফটিতে ১৮৫১ রান করেছেন। সবমিলিয়ে ১৩২ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ১৩ ফিফটি আর এক সেঞ্চুরিতে ২৭০৯ রান আছে তার। 
জ্যোতির অধীনে ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে হারায় টাইগ্রেসরা, যেটা এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম জয়।  টি-২০তে অধিনায়ক হিসেবে এটাই তার সবচেয়ে বড় সাফল্য। সাম্প্রতিক সময়ে সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছিল না জ্যোতির। গত এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতিও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। চার ম্যাচে ব্যাট হাতে করেছেন মাত্র ৫৬ রান, সর্বোচ্চ ২৩ রান গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে।  
এছাড়া অধিনায়ক হিসেবে নানামুখী সমালোচনার মুখেও ছিলেন জ্যোতি। দলে সিন্ডিকেট তৈরি করা, নিজের বলয়ের বাইরে গেলে নানা হয়রানির অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। মাঠের ভেতরের নেতৃত্ব, সতীর্থদের সাথে খারাপ আচরণ, দল নির্বাচন ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ, বিভিন্ন সময়ে এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদ সম্মেলন কিংবা সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে জ্যোতির কথাবার্তায় বরাবরই একটা আগ্রাসী ভাব দেখা যায়। মাঠেও তার নেতৃত্বের অন্যতম আলোচিত দিক অতিরিক্ত চিৎকার-চেঁচামেচি। প্রতিটি বলের সময় ফিল্ডারদের নির্দেশ দিতে গিয়ে তার উচ্চবাচ্য অনেক সময় উল্টো চাপ তৈরি করে, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিশাখাপত্তনমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও ম্যাচটি হারার পর জ্যোতির মাঠের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ে একাধিক সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। এক ম্যাচে চারটি ক্যাচ পড়ে, যার তিনটিই ছিল ফিফটি করা শেফালি ভার্মার। 
জাহানারা আলম ও সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদের দল থেকে সরে যাওয়া, এমনকি দেশের নারী ক্রিকেটের অন্যতম বড় নাম সালমা খাতুনের সাথেও জ্যোতির আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। আরেক ক্রিকেটারের অভিযোগ, জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকার ও আচরণের কারণে তিনি নিজেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এমনকি মারামারি ও গালাগালির ঘটনাও ঘটেছে বলে। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্পিনার জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনার বাদ পড়া নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়েও দলের এক তরুণ অলরাউন্ডারকে জ্যোতি হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সবাইকে ভয় দেখিয়ে চলবে বা সবাই ওর কথা শুনবে, জিনিসগুলো সেরকমই হচ্ছে। 
অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও সে জায়গায় আশাবাদী হওয়ার সুযোগ খুব বেশি দিচ্ছে না। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ১০ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসেনি কোনো ফিফটি। সর্বোচ্চ ৩৬ রান। শেষ ১০ ইনিংসে তার রান - ১৯, ০, ২৭, ৩৬, ৩২, ৩২, ১০, ৪, ২৩ ও ১৯।