প্রতারণা
প্রতারণা। সংগৃহীত

পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পরিচয় দিয়ে সরকারি অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর মেরামতের জন্য সরকারি অনুদান দেয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে এ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। একই কায়দায় উপজেলার আরো এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছেও টাকা দাবি করেছে চক্রটি।

Advertisement

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় বিড়ালজুরি ও কচুয়াকাঠি এলাকায় এ প্রতারণার ঘটনা ঘটে। 

প্রতারণার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম খাইরুল আলম ফিরোজ (৭৫)।

Advertisement

ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল আলম ফিরোজ জানান, শুক্রবার সকালে বিড়ালজুরি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজম আলী খান তাকে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর মেরামতের জন্য সরকারি অনুদানের টাকা এসেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরিচয়ে ০১৩১৯৬৭৯০৪৩ নম্বর থেকে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

পরে ওই নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর মেরামতের জন্য দুই লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দের টাকা পেতে ফাইল প্রস্তুত ও অন্যান্য খরচ বাবদ ০১৮৮১৪২১৭৬৮ নম্বরে তাৎক্ষণিক ৪২ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। তার কথায় বিশ্বাস করে কোনো কিছু যাচাই না করেই বিকাশের মাধ্যমে ওই নম্বরে ৪২ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন তিনি। পরে খোঁজখবর নিয়ে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছেন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আজম আলী খান বলেন, ‘শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ০১৩১৯৬৭৯০৪৩ নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসে। ফোনে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তার এলাকায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা থাকলে যোগাযোগ করতে বলেন। তাদের জন্য বরাদ্দ বা ভাতা রয়েছে বলেও জানান। পরে তিনি বিষয়টি তার ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল আলম ফিরোজকে জানান। পরবর্তীতে জানতে পারেন, এটি একটি প্রতারণার ঘটনা।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু খাইরুল আলম ফিরোজ নন, কাউখালী সদর ইউনিয়নের কচুয়াকাঠি এলাকার আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকেও একই কায়দায় ফোন করে ঘর মেরামতের সরকারি বরাদ্দ দেয়ার কথা বলে ৪২ হাজার টাকা দাবি করেছিল প্রতারক চক্রটি।

এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন। এটি সম্পূর্ণ সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে তার কোনো দাফতরিক নির্দেশনা বা এ ধরনের কোনো কার্যক্রম নেই। এ ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কাউখালী থানার ওসিকে অবহিত করা হয়েছে।’