
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সৌদি আরব প্রবাসীর বাড়িতে যাতায়াতের পথ ও সরকারি খাস জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে মো. নাজমুল হাসান নামে উপজেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলার নাইঘর গ্রামে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো: নাজমুল হাসান নাইঘর গ্রামের মরহুম নোয়াব মুহুরীর ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ভুক্তভোগী সৌদি আরব প্রবাসী মো: আজাদ হোসেন ও তার ভাই মো: কামাল হোসেন একই গ্রামের মরহুম আমির হোসেনের ছেলে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ঘর নির্মাণ এবং রাজনৈতিক ব্যানার ব্যবহার করে সেটিকে দলীয় কার্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টার চালান এ যুবদল নেতা। এছাড়া, সরকারি খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার অভিযোগও ওঠেছে তার বিরুদ্ধে।
খাস জমি দিয়ে চলাচলের আবেদন
সরকারি নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মো: কামাল হোসেন নাইঘর মৌজার এক নম্বর খাস খতিয়ানের জায়গা দখলমুক্ত করে চলাচলের সুযোগ করে দেয়ার জন্য কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৪২১ নম্বর দাগের পূর্বাংশে তাঁদের বাড়ি নির্মিত হয়েছে এবং ৪২০ ও ৪২১ নম্বর দাগের পূর্বাংশ দিয়ে খাল প্রবাহিত হয়েছে। নাইঘর মৌজার ৪২৩ নম্বর দাগের খাস অংশ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা চলাচল করে আসছেন। সরকারি খাস জায়গা ছাড়া বাড়িতে আসার মতো অন্য কোনো বিকল্প রাস্তা নেই বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কুমিল্লা থেকে আবেদনটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), ব্রাহ্মণপাড়া বরাবর পাঠানো হয়েছে। নথিতে আবেদনকারীর দাবির বিষয়ে সরেজমিন তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।
সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রবাসী আজাদ হোসেন ও তাঁর ভাই কামাল হোসেনের বাড়িতে যাতায়াতের পথ এবং সংলগ্ন সরকারি খাস জমিতে ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সালিশে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন ও আলী আকবর, বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও পল্লি চিকিৎসক মো. ইউনুস, সাবেক মেম্বার মো. আবুল কাশেম, বড় বাড়ির জসিম উদ্দিন, ফোরকান, আহাম্মেদ, সবুজসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সালিশকারীরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নাজমুল হাসানকে রাস্তার জায়গা খালি করে দিতে এবং সেখানে ঘর নির্মাণ না করার নির্দেশ দেন বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, সালিশের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সেখানে ঘর নির্মাণ করেন নাজমুল হাসান। পরে সালিশকারীরা ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের চেষ্টা করেন তিনি। ঘরটিতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছবি সংবলিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ সাইনবোর্ড লাগিয়ে সেটিকে বিএনপি কার্যালয় হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণের উদ্যোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি খাল ভরাট করে রাস্তার নামে আরো একটি দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন ওই নেতা। ইতোমধ্যে সেখানে কয়েকটি পিলার স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি দখল ও চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা ও সালিশকারকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার, খাল রক্ষা এবং প্রবাসীর বাড়িতে যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা মো. নাজমুল হাসান তা অস্বীকার করে দখল করা জমিতে আবারো সাইনবোর্ড লাগানো হবে বলে জানান। একই সাথে তার রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে পত্রিকায় সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ফোনালাপে তিনি জানান, ঘরটিতে লাগানো সাইনবোর্ডকে বা কারা খুলে নিয়েছে, তা তিনি জানেন না। তবে তিনি আবারো সেখানে সাইনবোর্ড লাগাবেন। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের আগে ওই কার্যালয়ে বসেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সর্বশেষ অবস্থান জানতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনী ইসলামের ফোনে ইতোপূর্বে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবারও কয়েকবার ফোন করা হয়, এবারো তিনি কল রিসিভ করেননি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








