রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও জনসচেতনতায় ইমামদের সাথে মতবিনিময়
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও জনসচেতনতায় ইমামদের সাথে মতবিনিময়। নয়া দিগন্ত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রকল্পটির ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা জোরদার করতে পাকশী ও সাহাপুর ইউনিয়নের ইমামদের নিয়ে ‘কমিউনিটি লিডার রাউন্ডটেবিল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পাবনা ও পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্র, ঈশ্বরদীর সহযোগিতায় পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্রে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো: জাহেদুল হাছান। এতে সভাপতিত্ব করেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো: কবীর হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনপিসিবিএলের প্রধান, মানবসম্পদ বিভাগ ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: আলিউজজামান।

সভায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া, কেন্দ্রের আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রকল্পটির স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের আর্থসামাজিক অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো: জাহেদুল হাছান বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কেন্দ্রটির দু’টি ইউনিট থেকে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপদ পরিচালনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি, একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক ড. মো: কবীর হোসেন বলেন, স্থানীয় জনগণের কাছে ইমামগণ অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে সঠিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য প্রচার, ভুল ধারণা দূরীকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রকল্প ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও যোগাযোগ আরো সুদৃঢ় করবে।

মতবিনিময় পর্বে ইমামগণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, কেন্দ্রের নিরাপত্তা, বিকিরণের প্রভাব, পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় জনগণের কল্যাণে প্রকল্পটির ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সাথে এ ধরনের মতবিনিময়ের মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক তথ্য ছড়িয়ে পড়বে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও আস্থা বাড়বে।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্ট-আপ পর্যায়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে এগোলে স্বল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।