
গাজীপুরে চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রমিক নিহত হওয়া এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেফতারের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ফেসবুক আইডি থেকে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শ্রমিক গ্রেফতারের দাবি করা হয়। একই সাথে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় দুই পোশাকশ্রমিক নিহত হওয়ার আরেকটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব দাবির কোনো ভিত্তি খুঁজে পায়নি।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো এসব গুজবে কান না দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি জানান, শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জেলার কোথাও কোনো শ্রমিক বা অন্য কেউ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আইডি থেকে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহতের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে যৌথ ধরপাকড়ের অভিযোগকেও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, কারা আন্দোলনের নামে নাশকতা চালাচ্ছে, পুলিশের কাছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ফেসবুকে ছড়ানো একটি পোস্টে পলাতক সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের আইডি থেকে দাবি করা হয়— গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুরে শ্রমিকদের বাসায় গিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ধরিয়ে দিচ্ছেন।
ওই পোস্টে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার পোশাক শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে বলেও অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু পুলিশ বা বিএনপির নেতাকর্মীরা এমন কোনো অভিযান চালাচ্ছেন— সংবাদের অনুসন্ধানে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় দুই পোশাকশ্রমিক নিহত হওয়ার দাবি করা ফেসবুক আইডির প্রোফাইল ও অন্যান্য পোস্ট বিশ্লেষণ করে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথেদ সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওই আইডি থেকে আন্দোলন উসকে দেওয়ার মতো আরো কয়েকটি পোস্টের তথ্য মিলেছে।
শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ ও গাজীপুর মহানগর পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, চলমান আন্দোলনে গাজীপুরের কোথাও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বরং বিক্ষোভকারীদের হামলা ও সহিংসতায় বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যারা নাশকতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা সহিংসতায় জড়াবে, তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাধারণ শ্রমিকদের হয়রানি করা নয়, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।
পুলিশ সুপার আবারো শ্রমিক, তাদের পরিবার এবং সর্বসাধারণকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যেকোনো তথ্য যাচাই-বাছাই না করে বিশ্বাস বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








