শিল্পাঞ্চল সাভার
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান। নয়া দিগন্ত

শিল্পাঞ্চল সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের পর এখন নতুন করে আন্দোলনের সুযোগ নেই; তাই বিশৃঙ্খলাকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।

Advertisement

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সাভারের বিভিন্ন পোশাক কারখানা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পাঞ্চল সাভারের হেমায়েতপুরের একেএইচ টাওয়ারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জের ধরে সোমবার (২ নভেম্বর) সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকার দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ওভেন লিমিটেড, দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ওয়াশ লিমিটেড, সামস স্টাইলিং ওয়্যার লিমিটেড, হেমায়েতপুরের জিন্স ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড, হেমায়েতপুরের একেএইচ ফ্যাশন লিমিটেড, একেএইচ অ্যাপারেলস লিমিটেড, একেএইচ শার্ট লিমিটেড, রাজফুলবাড়িয়ার একেএইচ নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেড, হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকার একেএইচ স্টিচ আর্ট লিমিটেড, হেমায়েতপুরের একেএইচ প্যাকেজিং লিমিটেড, হেমায়েতপুরের আংশুক লিমিটেড ও হেমায়েতপুর বিএনএম গার্মেন্টস লিমিটেড, গোল্ডেন স্টিচ লিমিটেড, যমুনা ডেনিমস লিমিটেড সহ মোট ১৪টি কারখানা একদিনের জন্য সাধারণ ছুটি ছিল। 

অপরদিকে খোলা ছিল প্রায় ৮০-৮৫টি কারখানা। সকালে কারখানাগুলোতে কাজ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে কিছুটা অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। তবে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। 

এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় একেএইচ গ্রুপের এ কে এইচ টাওয়ারে ব্যাপক হামলা, অর্ধশতাধিক বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে কারখানাটি বন্ধ রেখে একদিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

কারখানাটিতে সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, একেএইচ টাওয়ার ভবনে ভাঙচুর, সিকিউরিটি রুম ভাঙচুর ও আগুন, ল্যাব রুম ভাঙচুর এবং আমদানি-রফতানির কাজে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যান, শ্রমিকবাহী বাস এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়ি, শ্রমিক-স্টাফদের বাসসহ অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুরের দৃশ্য। বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিহ্ন। আগুনে কারখানার নিরাপত্তা বিভাগ পুড়ে গেছে। 

দুপুরের দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য ঠেকাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। তাঁদের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ। তারা শিল্পাঞ্চলে ভাঙচুর ও অস্থিরতার প্রতিবাদ জানান।

স্টাফ বাসের ড্রাইভার মো: রাসেল জানান, ‘বহিরাগতরা বাহির থেকে ইট মেরে ভাঙচুর করার সময় আমাদের স্টাফদের অনেকে আহত হয়েছেন। গাড়িগুলোতে রড দিয়ে ভাঙচুর করেছে।’

এ কে এইচ গার্মেন্টস কারখানার ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজার আকরাম হোসেন জানান, রোববারের ঘটনায় একেএইচ-এর ৭০টির অধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যারা হামলা করেছে তারা ছিল বহিরাগত হাফপ্যান্ট পরা, মাস্ক পরা, হেলমেট পরা। 

তিনি আরো জানান, দুষ্কৃতকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কারণ শ্রমিকরা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো কাজ করতে পারেন না।

এ কে এইচ গার্মেন্টস কারখানার সিনিয়র ম্যানেজার (প্রশাসন) মো: হুমায়ুন মজুমদার নয়া দিগন্তকে জানান, তাদের এ কে এইচ টাওয়ার ভবন, ল্যাব রুম, সিকিউরিটি ইনচার্জ রুম, কাভার্ডভ্যান, শ্রমিকবাহী বাস এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়ি, শ্রমিক ও স্টাফদের বাসসহ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির বক্তব্য

সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা যারা করছে আমরা ধরে নেব, তারা ভিন্ন উদ্দেশ্যে করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে করছে। কারণ এখন যেহেতু মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, আন্দোলন করার অবকাশ নেই। 

ডিআইজি বলেন, বিশৃঙ্খলাকারীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। বিশৃঙ্খলাকারীদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

সোমবার বিকেলে সাভারের বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগে কিছু দুষ্কৃতকারী তাদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। তারা দেশের পরিস্থিতি খারাপ করতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমরা তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি, তথ্য সংগ্রহ করছি। আন্দোলনের নামে বহিরাগত এসকল বিশৃঙ্খলাকারীকে আইনের আওতায় আনা হবে। এজন্য সকল শ্রমিককে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান ডিআইজি। তিনি বলেন, প্রকৃত শ্রমিক কখনো নিজ কর্মস্থলে ভাঙচুর চালাতে পারে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে জানিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুই দিনের তুলনায় আজকে (সোমবার) সাভারের পরিবেশ অনেকটাই শান্ত রয়েছে। টুকটাক বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ তৎপর থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। 

তিনি বলেন, দেশের শিল্পকারখানা ও জনসাধারণের সম্পদ যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা হবে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম প্রমুখ।