মুক্তিযোদ্ধা, মানিক পশারী
পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে এ প্রতিবাদ সভা। নয়া দিগন্ত

‎‘কে রাজাকার আর কে মুক্তিযোদ্ধা, তা একজন মুক্তিযোদ্ধা বলতে পারে না’ এমন মন্তব্য করেছেন পিরোজপুরের যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির বাদল। বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার সাক্ষ্য দেয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
‎
‎মানিক পশারীর মৃত্যুর আট দিন পর পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়, গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সভায় অংশ নেয়া কোনো মুক্তিযোদ্ধা তার কবরের কাছে গিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি নেতারা।
‎
‎সভায় সভাপতিত্ব করেন যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির বাদল। প্রধান বক্তা ছিলেন যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরদীদা খালেদ রবি। সঞ্চালনা করেন সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক সেন্টু।
‎
‎সভায় বক্তব্য দেন পিরোজপুর সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রব্বানী ফিরোজ, আব্দুস সালাম বাতেন ও আব্দুল মান্নান দরাণী। এছাড়া কাউখালী, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, জিয়ানগর ও নাজিরপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারাও বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন সমীর কুমার বাচ্চুসহ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের নেতারা।
‎
‎সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কবির বাদল বলেন, ‘কে রাজাকার আর কে মুক্তিযোদ্ধা, তা একজন মুক্তিযোদ্ধা বলতে পারেন না। একজন মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত হতে নিজেই আবেদন করেন। মানিক পশারী কেন ৫০ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন, তা তিনি বা তার পরিবার জানেন। অনেকে ধারণা করেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ার কারণে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে। তবে যতদিন তিনি গেজেটভুক্ত থাকবেন, ততদিন তাকে মুক্তিযোদ্ধা বলতে হবে।’
‎
‎মানিক পশারীর ভাই চাঁন পশারীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বাদল বলেন, ‘চাঁন পশারী কী বলেছেন এবং কেন বলেছেন, সে বিষয়ে তারা অবগত নন।’ 

Advertisement

উল্লেখ্য, চাঁন পশারী অভিযোগ করেছেন, তার ভাই অর্থের বিনিময়ে সাঈদীর মামলায় সাক্ষী হয়েছিলেন এবং তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।
‎
‎এদিকে, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই। এ সময় তিনি জহিরুল হকের পরিবারের সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাম্পে অবস্থানের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
‎
‎অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খোকন তালুকদারের ছেলে নাঈম তালুকদার প্রশ্ন তোলেন, মানিক পশারীকে কারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন? তিনি বলেন, ‘মানিক পশারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে থাকলে, যেসব তিনজন মুক্তিযোদ্ধার সুপারিশে তিনি গেজেটভুক্ত হয়েছিলেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত।’
‎
‎উল্লেখ্য, মানিক পশারী ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হন। তার গেজেট নম্বর ২৯৩২।
‎
‎সভায় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ‘মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়, গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।’ 

যত দিন তিনি গেজেটভুক্ত থাকবেন, তত দিন তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গার্ড অব অনার দিতে হবে বলেও জানান তারা।