ফকির লালন শাহের মাজার, দানবাক্স
লালন মাজারের দানবাক্সে টাকা গণনা চলছে। নয়া দিগন্ত

প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজারের দুটি দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা। এক বছর সময়ে এ অর্থ জমা হয়েছে। 

Advertisement

শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিক ও সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে দানবাক্স দুটি খুলে টাকা গণনা করা হয়। 

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধু-বাউল ও লালন ভক্তরা। 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত লালন মাজারে দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্ত-অনুরাগীদের দানে জমা হয় এসব অর্থ। দানের অর্থের হিসাব স্বচ্ছ রাখা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবার জনসম্মুখে দানবাক্স খোলা এবং টাকা গণনার উদ্যোগ নেয়া হয়। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেনসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। 

সাধু-বাউল ও ভক্তরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জনসমক্ষে দানবাক্স খোলা ও টাকা গণনার ফলে অর্থের হিসাব নিয়ে স্বচ্ছতা বাড়বে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা তাদের। 

কুমারখালীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাভিদ সারওয়ার জানান, দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা রোববার লালন অ্যাকাডেমির ব্যাংক হিসাবে জমা দেয়া হবে। পরে মাজারের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সাধু-বাউল ও ভক্তদের সেবায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে। সাধারণত লালন স্মরণোৎসব ও তিরোধান দিবসের আগে দানবাক্স দুটি খোলা হয়। ইতোপূর্বে জনসম্মুখে মাজারের এই দান বাক্স খোলা হতো না। এবার সাংবাদিক ও লালন ভক্তদের অনুরোধে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বীন-হাসান এই উদ্যোগ নেন।