নবজাতক চুরির সিসিটিভি ফুটেজ, (ইনসেটে) চুরি যাওয়া নবজাতক
নবজাতক চুরির সিসিটিভি ফুটেজ, (ইনসেটে) চুরি যাওয়া নবজাতক। নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে এক ছেলে নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে এক নারীকে নবজাতক কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এ ঘটনায় নবজাতকের মা ও স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement

চুরি হওয়া নবজাতকের মা মরিয়ম (১৯)। তার স্বামী শামীম বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি। এটি তাদের প্রথম সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে মরিয়মকে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসক ডা: ইশরাত হোমায়েরা নীলার তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অ্যানেস্থেশিয়া দেন ডা: তৌহিদ।

মরিয়মের বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চানপুর এলাকায়। তার মা মমতাজ বেগম মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করান। প্রায় চার বছর আগে মরিয়মের বিয়ে হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথম সন্তানের মুখ দেখলেও সন্তানকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগেই এমন ঘটনায় ভেঙে পড়েছে পরিবারটি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মরিয়মের মা মমতাজ বেগম বলেন, ‘মরিয়মকে ভুলভাল বুঝিয়ে আমার নাতিকে চুরি করে নিয়ে গেছে। বিয়ের চার বছর পর নাতির মুখ দেখেছি, কিন্তু নাতিকে ধরে রাখার ভাগ্য হলো না। আমার কী হবে, আমি বুঝতে পারছি না।’

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের নার্সিং ইনচার্জ খাদিজা আক্তার সুবর্ণা বলেন, বিকেলে মিডওয়াইফ নার্স নুসরাত জাহান এ্যানি, নার্স ফাতেমা আক্তার ও সাদিয়া খানম দায়িত্বে ছিলেন। তারা ঘটনাটি অবগত করার সাথে সাথে হাসপাতালে আসি। রোগীর সংখ্যা অনেক থাকায় কে কার বাচ্চা কোলে নিয়েছে, সেগুলো খেয়াল রাখা সম্ভব হয় না। তবে রোগীদের একাধিকবার সাবধানে বাচ্চা রাখার জন্য বলা হয়। কিন্তু তারা তা শোনেন না। যে কারণে এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: শাহিন ভূইয়া বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

ঘটনার পরপরই হাসপাতালে ছুটে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম। তিনি বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে আসি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম নবজাতককে উদ্ধারে কাজ করছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিব উর রাজা বলেন, ‘ঘটনার পরপরই হাসপাতালে এসেছি। সদর থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা ও পুলিশের একাধিক টিম সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নবজাতক উদ্ধারে কাজ করছে।’

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে নবজাতক নিয়ে এক নারীকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যাওয়ায় তাকে শনাক্ত ও নবজাতক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।