
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে খুঁটির সাথে বাঁধা বাবাকে নিজের হাতে চা-রুটি খাইয়ে আলোচনায় এসেছিল ছোট্ট তুবা বিনতে অরনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দৃশ্যের পর তুবার পরিবারের আর্থিক সঙ্কটের বিষয়টিও সামনে আসে। এবার সেই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ওয়াব ফাউন্ডেশন। তুবার বাবার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে একটি অটোভ্যান। এতে পরিবারের জন্য তৈরি হয়েছে নিয়মিত আয়ের সুযোগ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বামরাইলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তুবার পরিবারের হাতে অটোভ্যানটি তুলে দেয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অটোভ্যান চালিয়ে আয় করে সংসারের খরচের পাশাপাশি তুবার পড়াশোনা ও পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে পারবেন তার বাবা।
ওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য এস এম আকবরের উদ্যোগে এ সহায়তা দেয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তুবার পরিবার পুরোপুরি স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তুবার শিক্ষা ও পরিবারের প্রয়োজনেও সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা হবে।
ওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা বলেন, শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অসহায় পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। তুবার পরিবারের জন্য অটোভ্যান প্রদানও সেই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ওয়াবের বরিশাল প্রতিনিধি ইমরান এইচ শুভ, ফিরোজ আহমেদ, হাফিজুল ইসলাম ও সজলসহ সংগঠনের অন্য প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এককালীন অর্থ সহায়তার পাশাপাশি উপার্জনের একটি মাধ্যম তৈরি করে দিলে একটি পরিবার দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়। তুবার পরিবারের হাতে অটোভ্যান তুলে দেয়ার উদ্যোগটি সেই সুযোগ তৈরি করেছে। এখন পরিবারের প্রত্যাশা, নতুন এই আয়ের পথ ধরে সংসারের অনিশ্চয়তা কাটবে এবং তুবার পড়াশোনাও নির্বিঘ্নে চলবে।
স্থানীয় সমাজসেবক জিয়া আমিন রাড়ী বলেন, ‘তুবার পরিবারের হাতে এককালীন সহায়তা না দিয়ে কর্মসংস্থানের একটি মাধ্যম করে দেয়া হয়েছে। এতে পরিবারটি নিজেদের আয় দিয়ে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে। তুবার পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের জন্যও এটি ইতিবাচক উদ্যোগ।’
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা বলেন, ‘তুবার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ওয়াব ফাউন্ডেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, একটি পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া হলে তারা নিজেরাই আয় করে স্বাবলম্বী হতে পারে। তুবার পড়াশোনা ও পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য অটোরিকশাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








