অনশন
ময়মনসিংহে নিয়োগপত্রের দাবিতে ২২ শিক্ষকের অনশন। নয়া দিগন্ত

চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় ময়মনসিংহে ২২ নিয়োগপ্রত্যাশী শিক্ষক এবার কাফনের কাপড় বিছিয়ে অনশনে বসেছেন। নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

Advertisement

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন তারা। এ সময় কার্যালয়ের সামনে কাফনের কাপড় বিছিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা।

অনশনকারীদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ময়মনসিংহ জেলায় মোট ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়। পরে আরো দুজন নিয়োগপত্র পেলেও একই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ২২ জন এখনো নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

তাদের প্রশ্ন—একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কেন শুধু ২২ জনের নিয়োগ আটকে থাকবে? কেন তাদের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কারণও জানানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ময়মনসিংহে ২৫৯ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। প্রথম ধাপে ২১৯ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। পরে আরো দুজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ২২ জন এখনো বাদ পড়ে আছেন।’

তিনি বলেন, ‘কেন আমাদের বাদ রাখা হয়েছে, সেটাও জানানো হচ্ছে না। আমরা নিয়োগপত্র চাই। নিয়োগপত্র ছাড়া আজ কেউ এখান থেকে বের হব না। প্রয়োজন হলে এখানেই অনশন চালিয়ে যাব।’

মোশাররফ আরো বলেন, ‘আমরা কাফনের কাপড় নিয়ে এসেছি। না খেয়ে মরব, তবুও নিয়োগপত্র ছাড়া এখান থেকে ফিরব না।’

আরেক অনশনকারী হাসি আক্তার বলেন, ‘২১৯ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। কিন্তু তারা ২২ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি। কেন তাদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না, সেটিও জানানো হয়নি। অন্যদের সাথে বিদ্যালয়ে যোগ দিতে চান তারা।’

২২ জনের নিয়োগ কেন স্থগিত?

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ জেলায় মোট ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে ১৮ জন কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রয়েছে।

তবে এই ২২ জনের নিয়োগ স্থগিতের কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাদের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু ওই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু গোপনীয় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ বা সংশ্লিষ্টতার কথা রয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নেই জেলা পর্যায়ে

ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২৫৯ জনের সুপারিশ পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে ১৮ জন কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২২ জনের নিয়োগ এখনো স্থগিত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়, জেলা, উপজেলা, বিভাগীয় কিংবা অধিদফতর পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। মন্ত্রণালয় থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

২২ জনকে কেন বাদ দেয়া হয়েছে—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদন অত্যন্ত গোপনীয়। ফলে ওই প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে, তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের জানা বা প্রকাশ করার সুযোগ নেই।’

তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায় থেকে বর্তমানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা বলছেন, চূড়ান্ত সুপারিশের পর তাদের নিয়োগ আটকে রাখার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলে তাদের অনিশ্চয়তা কাটছে না। তাই নিয়োগপত্র অথবা সিদ্ধান্তের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা—দুটির একটির দাবি নিয়ে তারা অনশন কর্মসূচিতে বসেছেন।

সার্বিকভাবে, ২২ প্রার্থীর নিয়োগ স্থগিতের পেছনে যে গোপনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কথা বলা হচ্ছে, সেটির বিষয়বস্তু প্রকাশ না হওয়ায় এ নিয়ে প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। আর নিয়োগপ্রত্যাশীদের দাবি—তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত জানানো হোক।