ইজিবাইকচালকদের মহাসড়ক অবরোধ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী
ইজিবাইকচালকদের মহাসড়ক অবরোধ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী। নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গা-দামুড়হুদা সড়কের ফকিরপাড়া এলাকায় ইজিবাইক চলাচলে বাধার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইজিবাইক চালকরা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলাকালে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা বাস মালিক সমিতির উদ্যোগে ও পুলিশি সহায়তায় ফকিরপাড়া এলাকায় চুয়াডাঙ্গাগামী ইজিবাইক আটকে দেয়া হচ্ছে— এমন অভিযোগ তুলে সকালে দামুড়হুদা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে একত্রিত হন শতাধিক ইজিবাইক চালক। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনকারী চালকদের দাবি, ফকিরপাড়া এলাকায় ইজিবাইক আটকানোর জন্য স্থাপিত ব্যারিকেড অনতিবিলম্বে তুলে নিতে হবে এবং ইজিবাইক চলাচলের সুব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ইজিবাইক পৌর এলাকার বাইরে চলাচল বন্ধ এবং মহাসড়কে অবৈধ লেগুনা চলাচল বন্ধের জোরালো দাবি জানান তারা।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে সিন্ডিকেট চক্র সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ‘কথিত আইডি কার্ডধারী’ চক্র সড়কে ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে হয়রানি করছে এবং ইজিবাইক চালকদের মারধরও করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। পাশাপাশি সড়কে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। এসব বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তোলেন।

খবর পেয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।

তবে ইজিবাইক চালকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। দ্রুত এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধান না এলে আরো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।