মেঘনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চারজন
মেঘনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চারজন। নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবির ঘটনার ২৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পায়নি উদ্ধারকারী দল।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবে এক নারী নিহত ও একই পরিারের চারজন নিখোঁজ হন। নিখোঁজদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল। তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারের সন্ধান পাওয়া গেলেও নিখোঁজদের এখনো পাওয়া যায়নি।

ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন— হেলালউদ্দিন (৫৪), তার দুই ছেলে সজিব হোসেন (২৪) ও ছেলে সামিন হোসেন (৫) ও মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭)। তারা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রামের বাসিন্দা।

ট্রলারডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিখোঁজদের সন্ধানে মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। পরে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চেষ্টার পর নিখোঁজের সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার কাজ স্থগিত করে।

পরে আজ শুক্রবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তৎপরতা চালিয়ে ট্রলারের সন্ধান পেলেও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ট্রলারে দু’টি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এদিকে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ও নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে বিয়েবাড়িতে ছুটে যান নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অপরদিকে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিহত রায়েশা বেগমের (৫৫) লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বড় ভাই আবুল কাশেমের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাাঁড়ি পুলিশ।

নিহত রায়েশা বেগম ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। 

এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেরপাড়া গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩ জন আত্মীয়-স্বজন বিয়ের বাজার, দু’টি গরু ও একটি খাঁসিসহ ট্রলারযোগে আসছিলেন। পথে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে ট্রলারটি ঝড়ের কবলে পড়ে নদীতে তলিয়ে যায়।

এ সময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার আটজনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগম, হেলালউদ্দিন, সজিব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হন। ঘটনার আধা ঘণ্টা পর রায়েশা বেগমের লাশ উদ্ধার হলেও বাকিরা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিয়ের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা নিখোঁজদের সন্ধানে মেঘনা নদীর তীরে অপেক্ষায় রয়েছেন।

নিখোঁজদের স্বজন আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রলারডুবিতে তাদের চার আত্মীয় নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়াও তার ফুফাতো বোন রায়েশা বেগম পানিতে ডুবে নিহত হয়েছেন। তাদের বাড়িতে বিয়ের আনন্দ থাকার কথা ছিল। সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।  

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, অন্ধকারের কারণে বহস্পতিবার রাতে অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছিল। শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পুনরায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও নিখোঁদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, এখনো নিখোঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। 

বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের সন্ধানে চেষ্টা চলছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। তবে ট্রলারের সন্ধান পাওয়া গেছে। ট্রলারে দু’টি গরু ও একটি খাসি বাঁধা অবস্থায় মৃত পাওয়া গেছে।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় নিহত এক নারীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত জানান, ট্রলারডুবির ঘটনার খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।